বিজ্ঞানীরা করোনাভাইরাসের কার্যকর টিকা উদ্ভাবনে সক্ষম হবেন তা নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক টেড্রোস আডানোম গেব্রিয়াসিস। আর একটি কার্যকর টিকা উদ্ভাবনে এক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে বলে জানিয়েছেন তিনি। ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের স্বাস্থ্য কমিটির সঙ্গে এক ভার্চুয়াল বৈঠকে গেব্রিয়াসিস বলেন, এ ধরনের কোনও টিকা বাস্তবে পরিণত হলে তা সবার হাতের নাগালে আসা উচিত। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে ছড়িয়ে পড়ে করোনাভাইরাস। উৎপত্তিস্থল চীনে ৮৩ হাজারেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হলেও সেখানে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব কমে গেছে। তবে বিশ্বের অন্যান্য দেশে এই ভাইরাসের প্রকোপ বাড়ছে। চীনের বাইরে করোনাভাইরাসের প্রকোপ ১৩ গুণ বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে গত ১১ মার্চ দুনিয়াজুড়ে মহামারি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। মহামারিতে লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু হলেও এখন পর্যন্ত এর কোনও কার্যকর টিকা উদ্ভাবন সম্ভব হয়নি। বিভিন্ন দেশে এই টিকা উদ্ভাবনে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।
ভার্চুয়াল বৈঠকে ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক বলেন, ‘নিশ্চিত করে বলা খুবই কঠিন যে আমরা টিকা পাবোই। করোনাভাইরাসের টিকা কখনো পেতে নাও পারি। ফলে যখন আবিষ্কার হবে, আশা করছি আবিষ্কার হবে তখন প্রথমে এটাই হবে।’ তিনি জানান ডব্লিউএইচও’র কাছে বর্তমানে একশ’টিরও বেশি সম্ভাব্য টিকা আবিষ্কারের প্রচেষ্টার খবর রয়েছে। এর একটি খুবই উন্নত পর্যায়ে রয়েছে।
গেব্রিয়াসিস বলেন, আশা করি টিকা পাওয়া যাবে, ধারণা রয়েছে যে এক বছরের মধ্যে টিকা পাবো। যদি কাজে গতি আনা যায়, তাহলে হয়তো কয়েক মাস কম সময়েও পাওয়া যেতে পারে তবে তা দুই-এক মাসের চেয়ে বেশি কমে না। বিজ্ঞানীরা সেটাই বলছেন।’