বানরের শরীরে মডার্নার করোনা টিকার পরীক্ষায় ইতিবাচক ইঙ্গিত


বানরের শরীরে মার্কিন ওষুধ প্রস্তুতকারী কোম্পানি মডার্নার উদ্ভাবিত করোনা টিকার পরীক্ষায় ইতিবাচক ইঙ্গিত মিলেছে। ১৬টি বানরের শরীরে টিকাটি প্রয়োগ করে সাফল্য পেয়েছেন গবেষকরা। এটিকে এই মহামারি থেকে মানুষের সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি আশাব্যাঞ্জক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।








জার্নাল অব মেডিসিন-এর সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, দুটি ইনজেকশন দেওয়ার পরেই চোখে পড়ার মতো লক্ষণ দেখা গেছে। ওই বানরগুলোর মধ্যে সংক্রমণ আর এক চুলও বাড়েনি। গবেষকরা মনে করছেন, এই ভ্যাকসিন যদি একইভাবে মানুষের দেহেও কাজ করে তাহলে বাতাস থেকে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ মানব দেহে ছড়ানো অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, যেসব বানরের শরীরে ওই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়েছে তারা করোনা সংক্রমণের মধ্যে থেকেও কোনওভাবে ওই রোগে আক্রান্ত হয়নি। এমনকী তাদের ফুসফুসেও করোনার আক্রমণের কোনও প্রমাণ মেলেনি।
এই পরীক্ষা সফল হওয়ায় এবার ৩০ হাজার মানুষের শরীরে এই টিকা প্রয়োগ করা হবে। আগামী নভেম্বর বা ডিসেম্বরেই সেটি দেওয়া হবে মানবদেহে। এই ভ্যাকসিনে আরএনএ ব্যবহার করা হয়েছে, যা করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা করতে শরীরে একটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে। এই টিকা তৈরি ও এর উন্নয়নে ৯৫৫ মিলিয়ন ডলারের তহবিল দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ মনে করেন একটি কার্যকর ভ্যাকসিন পাওয়া গেলেই করোনাভাইরাস মহামারির অবসান হবে। আর তা উদ্ভাবনে বিশ্বজুড়ে চলছে দেড় শতাধিক প্রচেষ্টা। এর মধ্যে প্রায় ২৪টি ভ্যাকসিন মানুষের ওপর পরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে। ভ্যাকসিন উদ্ভাবনে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের (এনআইএইচ) সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে মডার্না।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের পরিচালক ফ্রান্সিস কলিন্স বলেন, ‘একটি নিরাপদ ও কার্যকর ভ্যাকসিন উদ্ভাবন করে ২০২০ সালের শেষের নাগাদ বিতরণ করতে পারা একটি বিস্তৃত লক্ষ্য, কিন্তু মার্কিন জনগণের কাছে এটাই সঠিক লক্ষ্য।’ সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে কলিন্স জানান, ভ্যাকসিন যখন নিরাপদ ও কার্যকর প্রমাণ হবে তখনই এটির লাখ লাখ ডোজ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে প্রস্তুত থাকবে।
মডার্না বলছে, অনুমোদন পেলে এ বছর ৫০ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন উৎপাদন করতে পারবে তারা। আর ২০২১ সাল থেকে বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা ১০০ কোটি ডোজে উন্নীত হবে। সূত্র: এনডিটিভি।