আগামী সপ্তাহেই আনুষ্ঠানিক চুক্তিতে উপনীত হচ্ছে ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দফতর হোয়াইট হাউসে। মঙ্গলবার ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। এর মধ্য দিয়ে ইসরায়েলের স্বাভাবিক সম্পর্ক তৈরির প্রতিশ্রুতি দেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত।
হোয়াইট হাউসের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসে ঐতিহাসিক এ চুক্তি স্বাক্ষরের আয়োজন করবেন।
ওই কর্মকর্তা জানান, উভয় দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
তিনি জানান, চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। আর আমিরাতের প্রতিনিধিত্ব করবেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাহ বিন জায়েদ।
এদিকে টুইটারে দেওয়া এক পোস্টে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, শান্তি চুক্তির ভিত্তি স্থাপনের জন্য আগামী সপ্তাহে হোয়াইট হাউসের এ সংক্রান্ত ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এজন্য আমি গর্বিত।
এদিকে সহসাই ইসরায়েলে দূতাবাস খুলতে যাচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামী তিন থেকে পাঁচ মাসের মধ্যেই এই দূতাবাস খোলা হবে। এর পাশাপাশি একটি কনস্যুলেট খোলার বিষয়েও চিন্তাভাবনা করা হবে।
আমিরাতি পররাষ্ট্র দফতরের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ‘আমি মনে করি ইসরায়েলিরা এখন থেকে তিন থেকে পাঁচ মাস পর দেশটিতে চালু হওয়া আমাদের দূতাবাস থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ট্রাভেল ভিসা পেতে সক্ষম হবে।’
এর আগে এ সপ্তাহের গোড়ার দিকে ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, আবুধাবিতে মার্কিন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আলোচনার সময় দূতাবাস খোলার বিষয়ে উভয় পক্ষের কর্মকর্তাদের কথা হয়েছে।
১৯৭৯ সালে মিসর ও ১৯৯৪ সালে জর্ডানের পর তৃতীয় আরব রাষ্ট্র হিসেবে ২০২০ সালের ১৩ আগস্ট ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ঘোষণা দেয় আমিরাত। দুই দেশের টেলিফোন যোগাযোগ সচল করার পাশাপাশি নিয়মিত বিমান চলাচল চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দফতর হোয়াইট হাউস ইঙ্গিত দিয়েছে, অন্য আরব রাষ্ট্রগুলোও আমিরাতকে অনুসরণ করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও সিনিয়র উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার জোর দিয়ে দাবি করেছেন, আমিরাতের মতো করে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে সৌদি আরবসহ অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলোও ইসরায়েলের সঙ্গে চুক্তিতে আবদ্ধ হবে।
নিউজউইককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কুশনার আমিরাতের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘বহু দেশ নিবিড়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। মানুষের প্রতিক্রিয়া কী হয়, তা দেখার চেষ্টা করছে তারা। এখানকার [আরব] তরুণ প্রজন্ম ব্যাপারটি নিয়ে খুব আলোড়িত। তবে বয়োজ্যেষ্ঠদের মধ্যে কিছু সদস্য এখনও নস্টালজিয়ায় ভুগছেন এবং কোনও ঝুঁকি নিতে চান না।’
আমিরাতের পর উপসাগরীয় বাকি দেশগুলোও ইসরায়েলের সঙ্গে ‘অনিবার্যভাবে’ চুক্তি করবে উল্লেখ করে কুশনার বলেন, এখন বিষয় হলো সেটা কতদিনের মধ্যে হবে। তিনি বলেন, ‘বাস্তবতা হচ্ছে এদের মধ্যে অধিকাংশ দেশই তাদের অর্থনীতি এগিয়ে নিতে চায়। তারা বুঝতে পেরেছে নিজেদের এটা থেকে বঞ্চিত করলে তারা ইরানের খেলায় তারা জড়িয়ে যাবে, যেখানে তাদের আগ্রহ একটি ভঙ্গুর এবং গোলযোগপূর্ণ মধ্যপ্রাচ্য গড়ার।’ সূত্র: আল জাজিরা।