নর্থ ক্যারোলিনার উইন্সটন সালেমে করোনা স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করেই নির্বাচনি সমাবেশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) মাস্ক না পরেই সমাবেশে অংশ নিতে দেখা গেছে তাকে। শুধু তাই নয়, স্থানীয়বাবে ৫০ জনের অধিক মানুষের জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ট্রাম্পের সমাবেশে যোগ দেয় কয়েক শ’ মানুষ। সমর্থকদের অনেকেই পরেননি মাস্ক। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
উইন্সটন সালেমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সফরের খবর পেয়ে স্থানীয় কাউন্টি কমিশনের রিপাবলিকান চেয়ারপার্সন ডেভ প্লাইলার আগেই তাকে মাস্ক পরার পরামর্শ দিয়েছিলেন। করোনাভাইরাস ঠেকাতে ওই এলাকায় মাস্ক পরার নিয়ম চালু রেখেছে স্থানীয় সরকার। উইন্সটন-সালেম জার্নালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডেভ প্লাইলার বলেছিলেন, ‘গভর্নর এ নির্দেশনা দিয়েছেন। আপনি যখন রোম যাবেন তখন রোমানদের মতো চলতে হবে। যখন নর্থ ক্যারোলিনায় যাবেন. তখন গভর্নর যা বলেন তা শুনতে হবে। ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। তবে তিনি আমাদের কাউন্টির একজন অতিথিও। এখানে মাস্ক না পরলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েতে পারেন। আর এর জন্য গভর্নরকে দায়ী করতে পারেন তিনি।’
তবে ডেভ প্লাইলারের সে আহ্বানে সাড়া দেননি ট্রাম্প। মঙ্গলবারের সমাবেশে ট্রাম্প নিজেতো মাস্ক পরেনইনি, উল্টো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন সামাজিক দূরত্বের নির্দেশনা মানছেন দেখে তাকে নিয়ে হাসাহাসি করেছেন।
সম্প্রতি বাইডেন একটি স্কুলের জিমনেসিয়ামে সমাবেশ করেছেন। সেখানে উপস্থিত হওয়া সবাইকে সামাজিক দূরত্বের নির্দেশনা মেনে চলতে দেখা গেছে। এ নিয়ে উপহাস করে ট্রাম্প বলেছেন, ‘আপনারা কখনও বৃত্ত আঁকা জিমনেসিয়াম দেখেছেন?’
মঙ্গলবার ট্রাম্প যখন সমাবেশে যোগ দেন তখন সমর্থকরা ‘নকিং অন হ্যাভেন’স ডোর’ গানটি বাজিয়ে তাকে স্বাগত জানান। সে সময় দেশজুড়ে চলা বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভ নিয়েও বিদ্রুপ করেন তিনি। নিজের সমাবেশে শত শত মানুষের জমায়েতকে ন্যায্যতা দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, পুলিশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের জমায়েত যখন গ্রহণযোগ্য, তখন তার সমর্থকদের জমায়েতও ঠিক আছে। তিনি বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে আমাদের সমাবেশগুলোকে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ হিসেবে ডাকবো।’
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘ডেমোক্র্যাট শাসিত অঙ্গরাজ্যগুলোতে এ নিয়ম জারি রয়েছে যে আপনি যদি প্রচারণা চালান তবে পাঁচজনের বেশি জড়ো হতে পারবে না। আপনি গির্জায় যেতে পারবেন না, বাইরে কোনও কিছুই করতে পারবেন না। তবে আপনি যদি দাঙ্গা চালাতে চান, তবে প্রধান সড়কে ঘুরে বেড়াতে পারবেন। আপনি দাঙ্গাবাজি করতে পারবেন, একজন আরেকজনের গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকতে পারবেন। যা খুশি তাই করতে পারবেন। আপনাকে তা করতে দেওয়া হবে কারণ আপনাকে সেখানে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারী বিবেচনা করা হচ্ছে।’
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পের বক্তব্যে ছিল অতিরঞ্জন। নর্থ ক্যারোলিনাতে মাস্ক পরাসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশনা জারি রয়েছে। গির্জাগুলো খুলে দেওয়া হলেও সেখানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে ৬৩ লাখেরও বেশি মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার মানুষের। শুধু নর্থ ক্যারোলিনাতে আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৭৮ হাজার। সম্প্রতি নর্থ ক্যারোলিনায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা কমতে দেখা গেছে।