মেলিসা একজন মুসলিম মার্কিন নাগরিক। ডিসেম্বরের ৮ তারিখে তিনি কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পর দেখেন,তার আট বছরের মেয়ে সোফিয়া কাঁদছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বিতর্কিত বক্তব্য ঘিরে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি জানান। ট্রাম্প তার বক্তৃতায় বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রে মুসলমানদের প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া উচিত। এই বক্তব্য তার ছোট্ট মেয়ের মনে গভীর ভীতির সৃষ্টি করে এবং সে আতংকে কাঁদতে থাকে। কাজ থেকে বাড়ি ফেরার পর তিনি বিষয়টি লক্ষ্য করেন এবং সারারাত মেয়েকে এই বলে সান্তনা দেন, তারা মুসলিম হলেও মার্কিন নাগরিক। তাদের কোনও সমস্যা হবে না।
পরদিন সকালে ৯ ডিসেম্বর এই ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। যাতে লেখা ছিল,‘মুসলমানদের আমেরিকা থেকে বহিষ্কার করা হবে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই কথা শুনে আমার মেয়ে ভয় পেয়েছে। এটা আমার জন্য একটা দুঃখজনক দিন। সেনাবাহিনী এসে আমাদের বের করে দেবে এমন ভয়ে আমার মেয়ে তার সমস্ত প্রিয় জিনিস একটি ব্যাগের মধ্যে ঢুকিয়ে ফেলেছে। সদর দরজার তালা সে তিন চার বার করে পরীক্ষা করে দেখছে। এটা সন্ত্রাসবাদ। এই ভীতিকর অনুভূতি কোনও আমেরিকান শিশুর প্রাপ্য নয়।’
শুধু তাই নয়। কেরি পিক ফেসবুকে আরও একটি পোস্ট দিয়ে তার সহকর্মীদের কাছে এ বিষয়ে সহায়তা চেয়ে লেখেন,‘মুসলমান শিশুরা এই আতংকে আছে যে সৈন্যরা তাদের বাসা থেকে বের করে দেবে। তারা আমাদের ব্যাপারে ভীত সন্ত্রস্ত।’ কেরি পিক একটি হ্যাশট্যাগ ক্যাম্পেইনের ডাক দেন যাতে করে এই রকম আতংকে থাকা শিশুরা ভরসা পায়।
এ ওটেরিও নামের একজন সেনা সদস্য তার ছবি টুইটার দিয়ে লিখেছেন,`বাসা থেকে বের করে দেওয়ার ভয় কারও পাওয়া উচিত নয় সোফিয়া। আই উইল প্রটেক্ট ইউ।’
কার্টিস হেলফোর্ড নামের আরেকজন লেখেন, ‘কোনও শিশু যেন এই ভয় না পায় যে সেনাবাহিনী তাদেরকে বাসা থেকে বের করে দেবে।’
যশ নামের আরেক সেনা সদস্য লেখেন, ‘যে কোনও ধর্ম,বর্ণ কিংবা
গোত্রের আমেরিকান,আমি আমার নিঃশ্বাস থাকা পর্যন্ত তোমাদের রক্ষা করবো।’
/এইআর/এসএম/