জাতিসংঘের বিতর্কিত মানবাধিকার পরিষদে একটি আসন লাভের সর্বাত্মক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে সৌদি আরব। এর আগে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ভয়াবহ রকমের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (ডব্লিউএইচও)। ফলে মানবাধিকার সংক্রান্ত ফোরামে দেশটিকে স্থান না দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানায় সংস্থাটি। ওই আহ্বানের পর ভোটাভুটিতে হেরে যায় রিয়াদ।
সাধারণ পরিষদে গোপন ব্যালটে এবার এই পরিষদের সদস্যপদ পাওয়া দেশগুলো হচ্ছে বলিভিয়া, যুক্তরাজ্য, চীন, কিউবা, ফ্রান্স, গ্যাবন, আইভরি কোস্ট, মালাওয়ী, মেক্সিকো, নেপাল, পাকিস্তান, রাশিয়া, সেনেগাল, ইউক্রেন ও উজবেকিস্তান। দেশগুলো ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি থেকে তিন বছর মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হয়েছে।
এশিয়া প্রশান্ত মহসাগরীয় অঞ্চলের জন্য নির্ধারিত চারটি আসনে চীন, পাকিস্তান, নেপাল ও উজবেকিস্তানের কাছে হেরে যায় সৌদি আরব।
আশা করা হয়, জেনেভাভিত্তিক মানবাধিকার পরিষদে নির্বাচিত সদস্য দেশগুলো স্বদেশে এবং বিদেশে মানবাধিকার উন্নয়ন এবং সুরক্ষার জন্য সর্বোচ্চ মান তুলে ধরবে। তবে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, সৌদি আরব ব্যাপকভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জড়িত। দেশটিতে মানবাধিকার কর্মী এবং রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে মারাত্মক দমন পীড়ন চালানো হয়।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সৌদি আরবকে সিরিয়াল মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী দেশ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। নিজের বিরুদ্ধে এমন ভয়াবহ সব অভিযোগের পর জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে দেওয়া তহবিল প্রত্যাহারের হুমকি দিয়েছে রিয়াদ।
২০১৫ সালের ২৬ মার্চ থেকে সৌদি আরব ইয়েমেনে সামরিক আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে। এতে এখন পর্যন্ত সাত হাজারেও বেশি শিশু হতাহত হয়েছে। এই প্রসঙ্গটি উল্লেখ করে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের জাতিসংঘ বিষয়ক পরিচালক লুইস চার্বোনিউ বলেছেন, শিশু হত্যাকারীরা মানবাধিকার পরিষদের সদস্য হতে পারে না।