প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট দিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভোটাররা যখন প্রস্তুতি নিচ্ছে তখন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে চীন। বেইজিংয়ে ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি এবং বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, গত কয়েক দশকের মধ্যে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক সবচেয়ে অনিশ্চিত এবং বিপজ্জনক সময়ে প্রবেশ করছে। তারা মনে করছেন নির্বাচনে যেই জিতুক তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলে দুই পরাশক্তির সম্পর্কে এর প্রভাব পড়বেই। গত রবিবার (১ নভেম্বর) সিঙ্গাপুরভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে।
বিভিন্ন ইস্যুতে বেইজিং ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার সম্পর্ক গত কয়েক দশকের মধ্যে এখন সবচেয়ে অনিশ্চিত ও বিপজ্জনক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় চীনা নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত এড়ানোর বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ৩ নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ও নির্বাচন-পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কে আরও অস্থিরতা সৃষ্টির আশঙ্কা করছে বেইজিং।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলকে কেন্দ্র করে দেশটিতে দীর্ঘমেয়াদি সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টির আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। আর তার প্রভাব পুরো বিশ্বে পড়তে পারে।
চীনা সরকারের এক উপদেষ্টার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে কোনও সংকট দেখা দিলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জন্য তা তীব্র ঝুঁকিপূর্ণ হবে। তখন সম্পর্ক আরও খারাপের দিকে যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রধান দুই প্রার্থী রিপাবলিকান ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ডেমোক্র্যাট জো বাইডেনের বিষয়ে কোনো ধরনের মন্তব্য করার বিষয়ে লক্ষণীয়ভাবে বিরত রয়েছে বেইজিং। তবে ট্রাম্প ও বাইডেন উভয় প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারের বিভিন্ন সময়ে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে চীন। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট বলছে, মার্কিন নির্বাচনের ফলাফল যা-ই হোক না কেন, চীনবিরোধিতা জোরদার হওয়ার আশঙ্কা করছে বেইজিং।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক পর্যবেক্ষকের মতে, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ইতিহাসে আগামী দুই থেকে তিন মাস সম্ভবত সবচেয়ে বিপজ্জনক সময় হবে। বিশেষ করে যদি বাইডেন অল্প ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন।