যুক্তরাষ্ট্রের একজন শীর্ষস্থানীয় নির্বাচনি কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনে কারচুপি নিয়ে প্রেসিডেন্টের মতামতের বিরোধিতা করায় তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে 'অত্যন্ত ভুল' মন্তব্য করায় তিনি সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ইনফ্রাসট্রাকচার সিকিউরিটি এজেন্সি (এসআইএসএ) প্রধান ক্রিস ক্রেবসকে বরখাস্ত করেছেন।
নির্বাচনে হারলেও পরাজয় মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ট্রাম্প। কোনও রকম তথ্য প্রমাণ ছাড়াই নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন। তবে এই নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে 'সবচেয়ে সুরক্ষিত' নির্বাচন হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনি কর্মকর্তারা।
ক্রেবস সম্প্রতি হোয়াইট হাউজের অসন্তুষ্টির কারণ হয়ে উঠেছিলেন। কারণ এসআইএসএ-এর একটি ওয়েবসাইট ছিল রিউমার কন্ট্রোল বা গুজব নিয়ন্ত্রণ নামে, যেখানে নির্বাচন নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য খণ্ডন করা হতো। তার বেশিরভাগ প্রভাব পড়েছে খোদ ট্রাম্পের ওপর।
গত সপ্তাহেই পদত্যাগ করেছিলেন এসআইএসএ-এর সহকারী পরিচালক ব্রায়ান ওয়ার। হোয়াইট হাউজ থেকে তাকে পদত্যাগ করতে বলা হয়েছিল। এবার বরখাস্ত হলেন ক্রেবস। তবে এ নিয়ে কোন আক্ষেপ দেখা যায়নি ক্রেবসের বক্তব্যে।
বরখাস্ত হওয়ার কিছুক্ষণ পর ক্রেবস যে টুইট করেছেন, সেখানে বরং তিনি ট্রাম্পের একটি অভিযোগ খণ্ডন করেছেন। ট্রাম্পের দাবি, অনেকগুলো রাজ্যে তার ভোট জো বাইডেনের নামে পাল্টে দেওয়া হয়েছে।
ক্রেবস টুইটারে বলছেনন, ‘নির্বাচন পদ্ধতি জালিয়াতির যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, ৫৯ জন নির্বাচনি নিরাপত্তা কর্মকর্তা একমত হয়েছেন যে, আমাদের জানামতে কোনও ঘটনাতেই এমন অভিযোগের ভিত্তি নেই। প্রযুক্তিগতভাবেও সেটা সম্ভব নয়।’
যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র দফতর হোমল্যান্ড সিকিউরিটির গুটিকয়েক শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে তিনি একজন, গত সপ্তাহে যারা ঘোষণা করেছেন যে, গত ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে সুরক্ষিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এসআইএসএ-এর ওয়েবসাইটে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘যদিও আমরা জানি যে, প্রমাণ ছাড়াই অনেক অভিযোগ ও নির্বাচনি প্রক্রিয়া নিয়ে ভুল তথ্য ছড়ানোর সুযোগ আছে, তবে আমরা নিশ্চিত করে বলছি, নির্বাচনের নিরাপত্তা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে আমাদের পুরো আস্থা রয়েছে। আপনাদেরও সেটা রাখা উচিত।’ যদিও এই বিবৃতিতে কোথাও ট্রাম্পের নাম উল্লেখ করা হয়নি।
নির্বাচনের একজন আইনি বিশেষজ্ঞের একটি টুইটের পাল্টা জবাব দিয়ে তিনি টুইটারে লিখেছিলেন, ‘দয়া করে এমন সব টুইট শেয়ার করবেন না যেখানে ভোটিং মেশিন নিয়ে ভিত্তিহীন অভিযোগ রয়েছে, সেটা প্রেসিডেন্টের হলেও।’ সূত্র: বিবিসি।