যুক্তরাষ্ট্রের এক জরিপে দেখা গেছে ২০১৭ সালের তুলনায় আফগানিস্তানে মার্কিন ও মিত্র বাহিনীর বিমান হামলায় বেসামরিক মানুষের মৃত্যু বেড়েছে ৩৩০ শতাংশ। কেবল ২০১৯ সালেই এসব বিমান হামলায় দেশটিতে প্রায় সাতশ’ বেসামরিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রাউন ইউনিভার্সিটির কস্ট অব ওয়ার প্রজেক্ট। ২০০১ সালে আফগানিস্তানে মার্কিন অভিযান শুরুর পর এক বছরে এটাই সবচেয়ে বেশি নিহতের ঘটনা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
ব্রাউন ইউনিভার্সিটির কস্ট অব ওয়ার প্রজেক্ট জানিয়েছে, ২০১৭ সাল থেকে মার্কিন বাহিনী আফগানিস্তানে যুদ্ধে জড়ানোর নিয়ম শিথিল করায় বেসামরিক মানুষের মৃত্যু বেড়েছে। গবেষকেরা বলছেন, আফগানিস্তানে মাঠ পর্যায়ে মার্কিন সেনার সংখ্যা কমে যাওয়া বিমান হামলায় হতাহত বাড়ার একটি কারণ। এছাড়াও তালেবানদের শান্তি আলোচনায় বাধ্য করতেও এই ধরনের হামলা বেড়েছে বলে মনে করেন তারা।
গত ফেব্রুয়ারিতে তালেবানদের সঙ্গে স্বাক্ষরিত শান্তি চুক্তির পর আফগানিস্তানে বিমান হামলা চালানো থেকে সরে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া দেশটিতে মার্কিন সেনার সংখ্যা আরও কমিয়ে ফেলারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা।
তবে কস্ট অব ওয়ার প্রজেক্টের জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র-তালেবান চুক্তি স্বাক্ষরের পর আফগান সেনাবাহিনী নিজেদের বিমান হামলার পরিমাণ বাড়িয়েছে। যদিও আফগান সরকার ও তালেবানের মধ্যকার শান্তি আলোচনা এখনও চলছে।
মার্কিন প্রজেক্টটির জরিপে বলা হয়েছে, ইতিহাসের অন্য যেকোনও সময়ের চেয়ে বর্তমানে আফগান বিমান বাহিনী অনেক বেশি বেসামরিক মানুষের ক্ষতি করছে। ২০২০ সালের প্রথম ছয় মাসে আফগান বাহিনীর হামলায় ৮৬ জন বেসামরিক মানুষ নিহত ও অপর ১০৩ জন আহত হয়েছে।
গত মাসে দাতব্য সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিগত ১৪ বছর ধরে প্রতিদিন গড়ে পাঁচ জন শিশু নিহত কিংবা আহত হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য বিশ্লেষণ করে সংস্থাটি জানায় ২০০৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দেশটির অন্তত ২৬ হাজার ২৫ শিশু নিহত কিংবা অঙ্গহানির শিকার হয়েছে।