ইসরায়েলের সঙ্গে মরক্কোর সম্পর্ক স্থাপনে ভূমিকা রেখেছে সৌদি!

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কো। প্রকাশ্যে মার্কিন মধ্যস্থতার কথা বলা হলেও এ সমঝোতায় প্রক্রিয়ায় সৌদি আরবেরও ভূমিকা ছিল বলে জানা গেছে। সূত্রের বরাত দিয়ে শুক্রবার ইসরায়েলি সম্প্রচারমাধ্যম চ্যানেল-১২ এ খবর জানিয়েছে।

ইসরায়েলের অন্যান্য সংবাদমাধ্যমও এ সমঝোতায় রিয়াদের জড়িত থাকার খবর দিয়েছে। তবে এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি।

চ্যানেল-১২ এর খবরে বলা হয়েছে, সৌদি আরব নিজেই ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের দিকে ঝুঁকছে। তবে এর আগে অন্য মুসলিম দেশগুলোকে সম্পর্ক স্থাপনের জন্য চাপ দিচ্ছে রিয়াদ। এ তালিকায় মরক্কোর পর ইন্দোনেশিয়া ও ওমানের মতো দেশগুলো যুক্ত হতে পারে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

এরইমধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতগামী ইসরায়েলের বাণিজ্যিক ফ্লাইটগুলোকে নিজ দেশের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে রিয়াদ। এর আগে ভারতীয় একটি বিমান সংস্থাকেও ইসরায়েলে যেতে সৌদি আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়।

রিয়াদের মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের পর থেকেই গুঞ্জন চলছে; সৌদি আরবও একই ধারবাহিকতা অনুসরণ করতে যাচ্ছে। প্রথমেই নিজেরা সামনে না এসে মিত্রদের সামনে ঠেলে দিচ্ছে রিয়াদ। সম্প্রতি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর গোপন বৈঠকের খবর সামনে আসার পর সেই গুঞ্জন জোরালো হয়েছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ২০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ক্ষমতা গ্রহণের আগে ইসরায়েল-সৌদি সম্পর্ক স্থাপনের সম্ভাবনা নেই। বাইডেন ক্ষমতা গ্রহণের পর ইসরায়েলের সঙ্গে চুক্তি করে নতুন মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করতে পারে রিয়াদ।

এক সময় মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে দখলদার শক্তি হিসেবে বিবেচিত হওয়া ইসরায়েলের সঙ্গে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝিতে আনুষ্ঠানিক চুক্তিতে উপনীত হয় আমিরাত ও বাহরাইন। ইসরায়েলের জন্মলগ্ন থেকেই বেশিরভাগ আরব রাষ্ট্র এটিকে একটি দখলদার শক্তি হিসেবে বিবেচনা করে আসছে। ফলে স্বভাবতই দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলকে বয়কট করে আসছিল তারা। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদের এই নীতিতে পরিবর্তন ছিল লক্ষ্যণীয়।

২০১৮ সালের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাময়িকী দ্য আটলান্টিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান স্পষ্ট ভাষায় বলেন, বহু বিষয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে সৌদি আরবের অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে। একইসঙ্গে তিনি মার্কিন নীতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ফিলিস্তিনের ভূখণ্ড দখল করে জন্ম নেওয়া ইসরায়েল রাষ্ট্রের অস্তিত্বের অধিকারের পক্ষে নিজের অবস্থানের কথা জানান। এর দুই বছরের মাথায় রিয়াদের দুই মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অচিরেই ইসরায়েলের সঙ্গে প্রকাশ্য সম্পর্ক স্থাপন করবে সৌদি আরব। সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, পার্স টুডে।