আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে পরমাণু সমঝোতা নিয়ে নতুন করে যে কোনও আলোচনা প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। আগের চুক্তিতে কোনও পরিবর্তনেও অস্বীকৃতি জানিয়েছে তেহরান। এর আগে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ মন্তব্য করেন, এ সংক্রান্ত নতুন আলোচনায় সৌদি আরবকে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। তার ওই মন্তব্যের জবাবে শনিবার এ বিষয়ে নিজ দেশের অবস্থান পরিষ্কার করে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাঈদ খতিবজাদেহ বলেন, পরমাণু সমঝোতা একটি বহুপাক্ষিক আন্তর্জাতিক চুক্তি। নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদিত এ চুক্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনার কিছু নেই। এত সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোও স্পষ্ট ও অপরিবর্তনীয়।
ওবামা আমলে ইরানের পরমাণু সমঝোতা স্বাক্ষরের পর থেকেই এর বিরুদ্ধে সরব হয় ইসরায়েল ও সৌদি আরব। পরে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেন। তবে নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন ক্ষমতায় এলে তিনি ফের যুক্তরাষ্ট্রকে এ চুক্তিতে ফেরাবেন। ফলে এখন বাইডেন ক্ষমতায় আসায় বিপাকে পড়েছে সৌদি আরব ও তার মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাত। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশ দুইটি চাইছে, ওয়াশিংটন যদি শেষ পর্যন্ত ফের এ সমঝোতায় ফিরে যায় তাহলে তেহরানের সঙ্গে নতুন আলোচনায় যেন তাদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে শনিবার এ ব্যাপারে নিজ দেশের অবস্থান পরিষ্কার করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ বলেছেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা না হলে পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে পিছু হটবে না তার দেশ। যুক্তরাষ্ট্রের এ সংক্রান্ত দাবি বাস্তবসম্মত নয় এবং এটি পূরণ হবে না। শুক্রবার ইস্তাম্বুলে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলু-র সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
জো বাইডেনের নতুন মার্কিন প্রশাসন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তিতে ফেরত আসার আগে তেহরানকে পারমাণবিক কর্মকাণ্ড শর্তমতো কমিয়ে আনতে হবে। ২০১৮ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট চুক্তি থেকে বেরিয়ে গেলে ইরান একের পর এক চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শুরু করে।
এই মাসের শুরুতে ইরান ভূগর্ভস্থ ফরদো পারমাণবিক স্থাপনায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শুরু করে। চুক্তি স্বাক্ষরের আগে এই পর্যায় অর্জন করেছিল তেহরান। তবে ইরান বলেছে, যদি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হয় তাহলে দ্রুত আগের অবস্থানে ফিরে যাবে চুক্তির শর্ত মতো। জাভেদ জারিফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করে তাহলে আমরাও কথা রাখবো।
গত মাসে ইরানের পার্লামেন্ট একটি আইন পাস করে। এতে বলা হয়েছে, দুই মাসের মধ্যে যদি যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা তুলে না নেয় তাহলে পারমাণবিক কর্মসূচি শক্তিশালী করবে। এর মধ্যেই ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নিয়ে নতুন আলোচনায় ইরানের প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচিত সৌদিকে নতুন আলোচনায় যুক্ত করার দাবি তোলেন।