হাসান রুহানিতেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার মধ্য দিয়ে সৌদি আরব শিয়া ধর্মীয় নেতা শেখ নিমরকে শিরশ্ছেদ করার অপরাধ লুকাতে পারবে না বলে সতর্ক করলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। মঙ্গলবার ড্যানিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টিয়ান জেনসেনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে রুহানি এ হুঁশিয়ারি দেন বলে খবর প্রকাশ করেছে ইরানের সংবাদ সংস্থা ইরনা। শেখ নিমরকে শিরশ্ছেদের পর সৌদি আরব আর ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন এ মন্তব্য করেন রুহানি।
সৌদি আরবে নিমররসহ ৪৭ জনকে শিরশ্ছেদের পর শনিবার তেহরানে অবস্থিত সৌদি দূতাবাসে আগুন দেওয়া হয়। জবাবে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেয় সৌদি আরব। আর তার প্রক্রিয়ায় মঙ্গলবার রুহানি বলেন, ‘সৌদি সরকার নিজেদের অপরাধ ঢাকার জন্য ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার মতো উদ্ভট পদক্ষেপ নিয়েছে। নিঃসন্দেহে, এ ধরনের পদক্ষেপ তাদের এতো বড় অপরাধকে ঢাকতে পারবে না।’
ইরানের সঙ্গে সৌদি আরবের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণার পর একে একে বাহরাইন আর সুদানও ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বাতিলের ঘোষণা দেয়। আর মঙ্গলবার ইরান থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় কুয়েত।
এদিকে নিমরের শিরশ্ছেদের ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা জানিয়ে সবাইকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র এবং তুরস্ক।
শনিবার সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে একদিনে নিমরসহ ৪৭ জনের শিরশ্ছেদের ঘোষণা দেওয়া হয়। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়াদের মধ্যে একজন মিসরীয় ও একজন কানাডিয়ান নাগরিকও রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ আনা হয়েছিলো। অভিযুক্তরা বিভিন্ন আবাসিক এলাকা ও সরকারি ভবনে হামলা ও হামলার পরিকল্পনার সাথে জড়িত ছিল বলে দাবি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
উল্লেখ্য, সৌদি আরবে ২০১৫ সালে সর্বমোট ১৫৭ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। দুই দশকের মধ্যে এটিই দেশটিতে এক বছরে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ডের ঘটনা। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, এর মধ্যে প্রথম একশ’ জনের ৫৬ জনকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে মাদক সংক্রান্ত বিভিন্ন মামলায়। নভেম্বর মাসে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছিল গত বছর সৌদিতে অন্তত ৬৩ জনকে মাদক সংক্রান্ত মামলায় ফাঁসি কার্যকর করা হয়।
সুন্নিপ্রধান দেশ সৌদি আরব ও শিয়া প্রধান দেশ ইরান মধ্যপ্রাচ্যের দুই প্রভাবশালী দেশ। যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়া ও ইয়েমেনে দুটি দেশই আলাদা আলাদা পক্ষকে সমর্থন দিচ্ছে। আর সেকারণে সৌদি-ইরানের মধ্যে নতুন করে তৈরি হওয়া উত্তেজনা সিরিয়া ও ইয়েমেনের শান্তি প্রশ্নে বাধা তৈরি করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সূত্র: আল জাজিরা, বিবিসি
/এফইউ/