করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে বিশ্ববাসী যখন দিশেহারা, কাজ হারিয়ে অনেকেই যখন হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন, বাধ্যতামূলক ছুটি এবং লকডাউনে যখন সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ বিপাকে; তখনও সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের। ৬ এপ্রিল (মঙ্গলবার) প্রকাশিত ফোর্বস ম্যাগাজিনের ৩৫তম বার্ষিক বিলিয়নিয়ারদের তালিকা থেকে এ তথ্য জানা গেছে। ফোর্বস জানিয়েছে, সম্পদের পাশাপাশি বেড়েছে ধনীদের সংখ্যাও। বিলিয়নিয়ার তালিকায় এবার যুক্ত হয়েছে নতুন আরও ৬৬০টি নাম।
ফোর্বস এর প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ফোর্বসের এবারের তালিকায় বিলিয়নিয়ারের সংখ্যা ২ হাজার ৭৫৫। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ২০৯৬। প্রথমবারের মতো এবারের তালিকায় স্থান পেয়েছেন ৪৯৩ জন। প্রতিবেদনে আরও জানা যায়, মহামারির ভেতর অতি ধনীদের মোট সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে পাঁচ ট্রিলিয়ন। তালিকায় থাকা প্রায় ৮৬ শতাংশ ব্যক্তির মোট সম্পদের পরিমাণ গত বছরের চেয়ে এবার আরও বেড়েছে। মানে প্রতি আটজনের মাঝে সাতজনেরই মোট সম্পদ বৃদ্ধি পেয়েছে।
টানা চতুর্থবারের মত ফোর্বসের এই তালিকার শীর্ষে অ্যামাজনের প্রধান জেফ বেজোস। বেজোসের মোট সম্পদের পরিমাণ এখন ১৭৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ১৫১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মোট সম্পদ নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছেন টেসলার প্রধান ইলন মাস্ক। তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে ফরাসি কোম্পানি এলভিএমএইচ-এর প্রধান নির্বাহী বার্নার্ড আরনল্ট।
তালিকার চতুর্থস্থানে আছেন মাইক্রোসফট এবং বিল এন্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। তার সম্পদের পরিমাণ ১২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ফেসবুকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ ফোর্বস তালিকায় আছেন পঞ্চম স্থানে। ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ারেন বাফেট। তার সম্পদের পরিমাণ ৯৬ বিলিয়ন ডলার।
সপ্তম ও অষ্টম অবস্থানে যথাক্রমে মার্কিন ধনকুবের ল্যারি এলিসন ও গুগলের ল্যারি পেজ রয়েছেন। ল্যারি এলিসনের সম্পদ ৯৩ বিলিয়ন ডলার। আর ল্যারি পেজের সম্পদের পরিমাণ ৯১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। ৮৯ বিলিয়ন ডলার নিয়ে তালিকায় নবম অবস্থানে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সের্গেই ব্রিন।
দশম অবস্থানে রয়েছেন ভারতের মুকেশ আম্বানি। ভারতীয় এ ধনকুবের মোট সম্পদ ৮৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের। এশিয়ার শীর্ষ ধনী ব্যক্তি তিনি। গত এক বছরে এই দশজনেরই সম্পদ আগের তুলনায় বেড়েছে।