ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়াবে না সৌদি আরব

ইয়েমেনের সানায় অবস্থিত ইরানের দূতাবাসে হামলার দৃশ্যমান কোন চিহ্ন দেখা যায়নিসম্পর্কের অবনতি সত্ত্বেও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছে সৌদি আরব। ইকোনমিস্ট ম্যাগাজিনের বরাতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা খবরটি নিশ্চিত করেছে। সম্পর্কের চূড়ান্ত অবনতির এই পর্যায়ে ইরানের সঙ্গে সৌদি আরব যুদ্ধে জড়িয়ে যাবে কিনা, ইকোনমিস্টকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন প্রশ্নের জবাবে সৌদি আরবের  উপ-যুবরাজ মোহম্মদ বিন সালমান সেই সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন।
সম্প্রতি সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে একদিনে শিয়া ধর্মীয় নেতা নিমর আল-নিমরসহ ৪৭ জনের শিরশ্ছেদের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে সৌদি আরব আর ইরানের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা চলছে। সে উত্তেজনা এরইমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে।  নিমররসহ ৪৭ জনকে শিরশ্ছেদের পর শনিবার তেহরানে অবস্থিত সৌদি দূতাবাসে আগুন দেওয়া হয়। জবাবে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেয় সৌদি আরব। পর দিন বাহরাইন, সুদান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও (ইউএই) একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেয়। মঙ্গলবার ইরানে নিযুক্ত  রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করে কুয়েত। বুধবার কাতারও ইরান থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহারের ঘোষণা দিলো। সবশেষ বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের সানায় অবস্থিত ইরানের দূতাবাসে সৌদি আরবের বিমান হামলায় বেশ কয়েকজন নিরাপত্তারক্ষী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ তোলে তেহরান।
এই প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের উপ-যুবরাজ মোহম্মদ বিন সালমান বলেছেন, ‘সম্পর্কের যতোই অবনতি হোক, আমরা যুদ্ধের কোনো সম্ভাবনা দেখছি না। কারণ সৌদি-ইরান যুদ্ধের একমাত্র অর্থ, এই অঞ্চলে বড় ধরনের বিপর্যয়।’ নিমর আল-নিমরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কে সুন্নি, কে শিয়া- এসব দেখে আদালত তার রায় দেন না। বিচারকরা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ খোঁজেন এবং তা পেলে অপরাধের গভীরতার ভিত্তিতেই আদালত তার রায় জানান। এখানে সরকারের কিছু করার নেই। নির্দিষ্ট একটি পদ্ধতির মধ্যে দিয়ে এই বিচারকাজ পরিচালিত হয়ে থাকে।’

গত ১ জানুয়ারি এক বিবৃতিতে রিয়াদ জানায়, শিয়া ধর্মীয় নেতা নিমর আল-নিমরসহ ৪৭ ‘সন্ত্রাসী’র মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। এরা সবাই ২০০৩ সাল থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে সৌদি আরবে ও এর প্রতিবেশী দেশগুলোয় আল-কায়েদার বিভিন্ন হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন বলে দাবি করা হয় বিবৃতিতে। উল্লেখ্য, ইরানের সঙ্গে নিমর আল-নিমরের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘণিষ্ঠ ছিল। ২০১১ সালে আরব বসন্তে তিনি জোর সমর্থন জানিয়েছিলেন।

/বিএ/