‘জোড়-বিজোড়ে দিল্লি হলো সিঙ্গাপুর’

শৃঙ্খলা আর সুব্যবস্থাপনার দিক দিয়ে দিল্লি যে সিঙ্গাপুরের সঙ্গে তাল মেলাতে পারে, এরইমধ্যে তা প্রমাণ হয়ে গেছে বলে দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। ভারতের দিল্লির বায়ুদূষণ কমাতে ১৫ দিনের জোড়-বিজোড় ফর্মুলায় গাড়ি চলাচল পরীক্ষা শুক্রবার শেষ হওয়ার পর এমন মন্তব্য করেন তিনি।
বায়ু দূষণ কমাতে পরীক্ষামূলকভাবে ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত দিল্লির রাস্তায় জোড়-বিজোড় পদ্ধতির গাড়ি চলাচলের নির্দেশ দেয় কেজরিওয়াল সরকার। জোড়-বিজোড় ফর্মুলা অনুযায়ী, যে সব গাড়ির নম্বর শেষ হচ্ছে এক, তিন, পাঁচ, সাতের মতো বিজোড় নম্বরে, তা দিল্লিতে পথে নামতে পারবে শুধু বিজোড় সংখ্যার দিনে। ঠিক তেমনই, জোড় সংখ্যায় শেষ হচ্ছে যে সমস্ত গাড়িরনম্বর, তা পথে চলতে পারবে জোড় সংখ্যার দিনে।

দিল্লিতে গাড়ি চলাচলের ছবি


শুক্রবার জোড়-বিজোড় ফর্মুলার পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল বলেন, ‘লোকজন বলে অন্য যে কোনও জায়গার চেয়ে সিঙ্গাপুরের নিয়ম-রীতি অনেক চমৎকার। কিন্তু জোড়-বিজোড় ফর্মুলার মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয়ে গেল যে, দিল্লিও একইরকম হতে পারে।’

জোড়-বিজোড় ফর্মুলা চলাকালীন যারা নিয়ম ভঙ্গ করেছেন তাদের কাছ থেকে ২ হাজার রুপি জরিমানা নেওয়া হয়েছিল। তবে কেজরিওয়ালের দাবি, জরিমানার ভয়ে নয়, দিল্লির মানুষ স্বতস্ফূর্তভাবে নিয়ম মেনেছে।

 

দিল্লিভিত্তিক সেন্টার ফর সায়েন্স জানায় বায়ুদূষণে প্রতিবছর ৩০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়
তিনি বলেন, ‘এটি এমন নয় যে ২ হাজার রুপি জরিমানা হওয়ার ভয়ে দিল্লিবাসী জোড়-বিজোড় ফর্মুলা মেনে চলেছেন। সত্যিকার অর্থেই দিল্লির মানুষ খুব চমৎকার। তারা বেশ সহযোগিতাপ্রবণ।’
কেবল বায়ু দূষণই নয়, জোড়-বিজোড় ফর্মুলায় যানজটও কমানো সম্ভব বলে মনে করেন কেজরিওয়াল। তিনি বলেন, ‘পরীক্ষা চলাকালীন রাস্তায় গাড়ির সংখ্যাও কমে গিয়েছিল। যেখানে যেতে চার ঘণ্টা লাগে সে একই দূরত্বে দুই ঘণ্টায় পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। ঝামেলাও কমেছে সেইসঙ্গে দুই ঘণ্টা সময় বেঁচেছে।’
এদিকে জোড়-বিজোড় ফর্মুলার কারণে দিল্লির দূষণের মাত্রা ২০-২৫ শতাংশ কমেছে বলে দাবি করেছেন দিল্লির পরিবহন মন্ত্রী গোপাল রায়। দিল্লিতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, জোড়-বিজোড় ফর্মুলা পরীক্ষার প্রথম দিনে মাইক্রোস্কপিক পার্টিকেলসের মাত্রা পিএম ২.৫ এর চেয়ে কম ছিল। তবে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত দিল্লির বাতাস এখনও অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
দিল্লিভিত্তিক সেন্টার ফর সায়েন্স এন্ড এনভায়রনমেন্টের তথ্য অনুযায়ী দূষিত বাতাসের কারণে প্রতিবছর ৩০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। সূত্র: এনডিটিভি
/এফইউ/বিএ/