তুষারঝড়ের প্রাবল্যে বিপর্যন্ত হয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূল। আটলান্টিক মহাসাগরের তীরবর্তী বিভিন্ন অঞ্চলে এই ঝড়ের কবলে পড়ে শুক্রবার থেকে ও পর্যন্ত প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ জনে। আক্রান্ত ২০টি অঙ্গরাজ্য। এরমধ্যে ১১টি অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। ঝড়ে প্রভাবিত হয়েছে ৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষের জনজীবন। রোববার (২৪ জানুয়ারি) দেশটির জাতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তরের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এসব খবর জানিয়েছে।
এই তুষারঝড়টিকে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে ভয়াবহ তুষারঝড় বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। অপরিহার্য নয় এমন সব ধরনের যান চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে নিউ ইয়র্কে। কেনটাকি এবং পেনিসিলভানিয়ার হাজার হাজার বাড়ি গত ১২ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন। এদিকে ভার্জিনিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চল ঢেকে গেছে ৩০ ইঞ্চি বরফের আস্তরণে। অন্তত ১০০০ টি গাড়ি সংঘর্ষের কবলে পড়েছে। সেসব ঘটনায় ২ জনের প্রাণহানি হয়েছে।
এরআগে শনিবারই বিভিন্ন এলাকায় তুষারপাতের পরিমাণ ২৪ ইঞ্চি পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। গার্ডিয়ান জানায়, শুক্রবার দুপুরে ওয়াশিংটনে মৌসুমের প্রথম তুষারপাত হয়। প্রথম দিনেই ২০টি অঙ্গরাজ্যের প্রায় ৮ কোটি ৫০ লাখ মানুষ দুর্ভোগে পড়েন। শনিবার পর্যন্ত সর্বোচ্চ তুষারপাত রেকর্ড করা হয়েছে পশ্চিম ভার্জিনিয়াতে ২৮ ইঞ্চি, ফিলিপ্পিতে ২৪ ইঞ্চি ও পেনিসিলভানিয়ার রিজেলিতে ২৩ ইঞ্চি।
যুক্তরাষ্ট্রের আবহাওয়া দফতর পূর্বাভাসে জানিয়েছে, রবিবার তুষারঝড়টি রাজধানী ওয়াশিংটনের ওপর দিয়ে বয়ে যেতে পারে। এ তুষারঝড় শহরটির ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
তুষারঝড়ের কারণে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থিতা-প্রত্যাশীরাও তাদের প্রচারণা স্থগিত করে ঘরে ফিরে যাচ্ছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও হোয়াইট হাউজে অবস্থান করছেন।
উল্লেখ্য, ১৯২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে তুষারঝড়ের কবলে পড়ে প্রায় ১শ মানুষের প্রাণহানি হয়েছিল। ওই সময় ২৮ ইঞ্চি পর্যন্ত পুরু তুষারের স্তূপ জমেছিল। সূত্র: গার্ডিয়ান, বিবিসি
/বিএ/