ইউক্রেনের বন্দরগুলো আর যুদ্ধের কারণে অবরুদ্ধ নয়। খাদ্য সহায়তার অংশ হিসেবে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই দেশটি থেকে প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য কেনার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। সংবাদমাধ্যম এপি-র সঙ্গে আলাপকালে এমন মন্তব্য করেছেন বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির প্রধান ডেভিড বিসলে। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
ডেভিড বিসলে জানান, এসব শস্যের চূড়ান্ত গন্তব্য এখনও পর্যন্ত নিশ্চিত নয়। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
দুনিয়াজুড়ে ক্ষুধার বিরুদ্ধে লড়াই করছে জাতিসংঘের বেশ কয়েকটি সংস্থা। এরইমধ্যে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির ব্যবস্থাপনায় অনাহারের ঝুঁকিতে থাকা হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চলের জন্য ২৩ হাজার মেট্রিক টন খাদ্যশস্য নিয়ে ইউক্রেন থেকে একটি জাহাজ যাত্রা করেছে। ডেভিড বিসলে জানান, এসব খাদ্যশস্য দিয়ে এক মাসের জন্য দেড় মিলিয়ন মানুষকে রেশন হিসেবে খাদ্য সরবরাহ করা সম্ভব।
আগামী ২৬ বা ২৭ আগস্ট জাহাজটি জিবুতিতে নোঙর করার কথা রয়েছে। পরে সেখান থেকে স্থলপথে উত্তর ইথিওপিয়াতে এই চালান থেকে সরবরাহকৃত গম পাঠানোর কথা রয়েছে।
গত বছর ১৩০ মিলিয়ন ক্ষুধার্ত মানুষকে খাওয়ানোর জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যে শস্য কিনেছিল তার অর্ধেকেরই উৎস ছিল ইউক্রেন। গত ফেব্রুয়ারিতে রুশ আগ্রাসনের ঘটনায় প্রথমবারের মতো ইউক্রেনীয় শস্য রফতানি মুখ থুবড়ে পড়ে। শস্য রফতানিতে দীর্ঘ অচলাবস্থা কাটতে গত ২২ জুলাই জাতিসংঘ ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় মস্কোর সঙ্গে চুক্তিতে উপনীত হয় কিয়েভ। আঙ্কারা জানিয়েছে, ওই চুক্তির আওতায় ইতোমধ্যেই ২৭টি জাহাজ ইউক্রেনের কৃষ্ণ সাগর উপকূলের বন্দর ছেড়েছে।