আশা নামের এক বছরের যে শিশুটিকে আশ্রয় দেওয়ার প্রশ্নে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে, তার ক্ষেত্রেও নেতিবাচক অবস্থান জানান দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। আশ্রয়প্রার্থীদের সম্পর্কে সরকারের কঠোর নীতির অবস্থান বদলাতে রাজি নয় দেশটি। এ নিয়ে সমালোচনা থাকলেও তাতে কান দিতে রাজি নয় অস্ট্রেলিয়া।
উল্লেখ্য, বিভিন্ন দেশ থেকে নৌকায় করে আসা শরণার্থীদের আটকানোর পর তাদের নাউরু দ্বীপে স্থানান্তর করে অস্ট্রেলিয়া। শরণার্থীদের ঢল সামাল দিতে গোটা ইউরোপ যখন হিমশিম খাচ্ছে সে সময়ও বহু বছরের বিতর্কিত এ নীতি বহাল রাখে দেশটি। তবে আশা নামের এক বছরের এক শিশুকে দ্বীপান্তর করা নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। তবে এতে অবস্থান বদলাতে রাজি নয় ক্যানবেরা।
ব্রিসবেন হাসপাতালের চিকিৎসকরা ওই শিশুকে ছাড়পত্র দিতে রাজি নন। ধারণা করা হচ্ছে, এই শিশুটিরও ঠাঁই হবে অস্ট্রেলিয়ার ডিটেনশন সেন্টারে। শিশুটির মা-বাবাও ক্যাম্পে ব্যাপকভাবে দগ্ধ হয়েছেন।
অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অভিবাসনমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেন, এই নীতিমালা অবশ্যই পুরোপুরিভাবে বহাল থাকবে। অস্ট্রেলিয়ার কর্তৃপক্ষ বলছে, তাদের শরণার্থী বা আশ্রয়প্রার্থীদের ঢল ঠেকাতে তাদের এ সংক্রান্ত নীতিমালা জরুরি।
চলতি মাসের গোড়ার দিকে সমুদ্রপথে অস্ট্রেলিয়ায় আসা আশ্রয়প্রার্থীদের সম্পর্কে দেশটির সরকারের নীতি বৈধ বলে রায় দেয় অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ আদালত। এর আগে এ সম্পর্কে একজন বন্দি আশ্রয়প্রার্থীর যুক্তির ভিত্তিতে আইনজীবীদের আনা একটি অভিযোগ আদালত খারিজ করে দিয়েছিল।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় ক্ষুদ্র রাষ্ট্র নাউরু’র দ্বীপে অস্ট্রেলীয় বন্দীশিবিরে আটক ২৫০ শরণার্থীর মধ্যে অন্তত ৩৭ জনই শিশু।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী মেলকম টার্নবুল দাবি করেন, ‘সীমান্ত নিরাপদ রাখাই এই আইনের উদ্দেশ্য। বিপদজনক সাগরপথে মানুষের মৃত্যুর যে আশঙ্কা থাকে এর মাধ্যমে সেটা প্রতিরোধের সুযোগ থাকে। আমাদের বক্তব্য সুস্পষ্ট। আমাদের সীমান্ত নিরাপদ। এখানে মানবপাচারের কোনও সুযোগ থাকবে না।’ সূত্র: বিবিসি।
/এমপি/বিএ/