শনিবার বুথফেরত জরিপে দেখা যায়, ২৯০ আসনবিশিষ্ট ইরানের পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী তিনটি ভিন্ন রাজনৈতিক অংশের কেউই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারেনি। তবে এ তিনটি অংশের মধ্যে গণতান্ত্রিক পরিবর্তন আনয়নের প্রতিশ্রুতি দানকারী সংস্কারপন্থী এবং তাদের জোটের অংশ মধ্যপন্থীরা এগিয়ে রয়েছে। বার্তা সংস্থা মেহের ও এপির হিসেব অনুযায়ী এ আভাস মিলেছে। তবে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি।
৮ কোটি জনসংখ্যার দেশ ইরানের প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি ভোটার এবারের নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য নিবন্ধিত হন। পার্লামেন্টের ২৯০টি আসনের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ৬ হাজার ২২৯ জন প্রার্থী। এর মধ্যে নারী প্রার্থী ৫৮৬ জন। চার বছরের জন্য মজলিশ বা পার্লামেন্ট সদস্যদের বেছে নেবেন ইরানিরা। মজলিশের সদস্যদের আইন প্রণয়ণের পাশাপাশি প্রেসিডেন্টের ব্যাপারে অনাস্থা প্রকাশের ক্ষমতা রয়েছে। আর বিশেষজ্ঞ পরিষদের জন্য ৮৮ জন ধর্মীয় নেতাকে ৮ বছরের জন্য বেছে নেওয়া হবে। এ বিশেষজ্ঞ পরিষদই ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে বাছাই করে থাকেন। পরিষদ চাইলে সর্বোচ্চ নেতাকে উৎখাত করতে পারে।
তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার ব্যাপারে ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের পর শুক্রবার প্রথমবারের মতো ইরানে পার্লামেন্ট ও বিশেষজ্ঞ পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আর ইরানের এবারের মজলিশ ও বিশেষজ্ঞ পরিষদের নির্বাচনে অর্থনীতি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। ইরানের ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহারের পর পশ্চিমা বিনিয়োগকারীরা দেশটিতে ফেরত যেতে শুরু করায় জীবন মান উন্নয়নে আশাবাদ বেড়েছে। সংস্কারবাদী এবং মধ্যপন্থীরা বিদেশি বিনিয়োগকে প্রাধান্য দিয়ে প্রচারণা চালিয়েছেন। আর সেকারণে আন্তর্জাতিক বিশ্বের চোখ রয়েছে পার্লামেন্ট নির্বাচনের দিকে। এছাড়া তাদের প্রচারণা ইরানের তরুণদের জন্যও আকর্ষণীয় ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ,ইরানের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি তরুণ হলেও দেশটিতে তরুণদের বেকারত্বের হার ২৫ শতাংশ।