ছাত্রনেতা কানহাইয়া কুমার ইস্যুতে যত সমালোচনাই হোক, পুরো ঘটনায় নিজেদের বিজয়ীই মনে করছে ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতৃত্ব। মাত্র ২০ দিনেই ছাত্রনেতা থেকে জাতীয় রাজনীতির আঙিনায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন কানহাইয়া কুমার। জেল থেকে বেরুনোর পর যে বক্তব্য তিনি দিয়েছেন, তাতে বিজেপি ও সংঘ পরিবার বাদে অন্য রাজনৈতিক দলগুলো এখনও বুঁদ হয়ে রয়েছে। তারপরও কানহাইয়া ইস্যুতে নৈতিক বিজয় দাবি করেছে বিজেপি।
ভারতের ছাত্র-যুবকদের একটি বড় অংশ এখন কানহাইয়া-জাদুতে মুগ্ধ। এই পরিস্থিতিতে বিজেপি প্রথমে ঠিক করে কানহাইয়া প্রসঙ্গ নিয়ে আর না এগিয়ে তার বদলে ‘জনদরদী’ বাজেটকে তুলে ধরা হবে। আর সময়ের নিয়মে থেমে যাবে জেএনইউ বিতর্ক। কিন্তু যেভাবে কানহাইয়ার প্রতি সমর্থন বাড়ছে, তাতে পাল্টা আক্রমণে নামার পরিকল্পনা নিয়েছে দলটি।
বিজেপি মনে করছে, কানহাইয়া প্রসঙ্গ পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়া উচিত হবে না। বরং দেশভক্তির প্রশ্নে যারা কানহাইয়ার অবস্থানের বিপক্ষে, তাদের আবেগকে উস্কে দেওয়া দরকার।
বিজেপি মেনে নিচ্ছে, প্রথম রাউন্ডে কানহাইয়া কিছুটা এগিয়ে গিয়েছেন। কিন্তু পাল্টা হিসেবে তার বক্তব্যকে দেশবিরোধী বলে তুলে ধরে লাগাতার প্রচার চালাবে বিজেপি। একইসঙ্গে কংগ্রেস বা বাম দলগুলো, যারা কানহাইয়াকে সামনে রেখে বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণ চালাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধেও প্রচার করতে চায় দলটি। সেই কৌশলেই দলীয় সভাপতি অমিত শাহের পর এবার বৃন্দাবনে বিজেপির যুব মোর্চার অনুষ্ঠানে মুখ খুলেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি।
নিজের বক্তব্যে কানহাইয়ার নাম না নিয়েই তার প্রতি ইঙ্গিত করেন জেটলি। তিনি বলেন, দেশদ্রোহের অপরাধেই ওই ছাত্রনেতাকে জেলে যেতে হয়েছিল। কিন্তু জেল থেকে বেরিয়ে তিনি বক্তৃতায় ‘জয় হিন্দ’ বলতে বাধ্য হয়েছেন, তেরঙ্গা উড়িয়েছেন। এটাই বিজেপির নৈতিক বিজয়।
ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর মতে, বিষয়টি নিয়ে বিজেপি সরব হওয়াতেই ওই ছাত্রনেতা নিজের দেশবিরোধী অবস্থান বদলাতে বাধ্য হন।
জেটলির ভাষায়, ওই ঘটনায় বিজেপি তার জাতীয়তাবাদী দায়বদ্ধতা প্রমাণ করেছে এবং জয়ী হিসেবে নিজেকে তুলে ধরেছে।
উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের কানহাইয়া-বিরোধী হুঙ্কার বা অমিত শাহের কড়া বক্তব্যের পরদিন জেটলির জাতীয়তাবাদী অবস্থান দেখে অনেকেই মনে করছেন, পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আগে মেরুকরণের তাস খেলতেই পরিকল্পিত পদক্ষেপ নিচ্ছে বিজেপি।
জেটলির নিশানা থেকে বাদ যাননি রাহুল গান্ধীও। আগের দিন অমিত শাহ কিছুটা রাখঢাক করে আক্রমণ করলেও পরদিন রাহুলকে সরাসরি নিশানা করেন জেটলি। দল হিসেবে কংগ্রেসের বদলে ব্যক্তি রাহুলকেই আক্রমণ করেন তিনি।
কানহাইয়ার সমর্থনে রাহুলের সরব হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ইন্দিরা বা রাজীব গান্ধী হলে কখনওই এ কাজ করতেন না। আসলে মতাদর্শগত শূন্যতার কারণেই দেশকে ভাগ করার স্লোগান যারা দিয়েছিলেন, তাদের সমর্থনে মুখ খুলেছেন রাহুল।
জেটলির বক্তব্যে স্পষ্ট, জাতীয়তাবাদের প্রশ্নে রাহুল ও তার দলের মধ্যে বিভাজন তৈরি করতে চাইছে বিজেপি। জেটলি বলেন, একমাত্র জরুরি অবস্থা ছাড়া বরাবরই কংগ্রেস দেশভাগের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে সক্রিয় ছিল। এখন কিছু লোক ইয়াকুব মেনন বা আফজল গুরুর সমর্থনে মুখ খুলছে। এদের একটা অংশ জিহাদি, বাকি বড় অংশটি মাওবাদী। দেশের দুর্ভাগ্য হলো, কংগ্রেসের এক নেতা (রাহুল) এদের জন্য সহানুভূতি দেখাচ্ছেন!
বিজেপি যে অঙ্ক কষেই তাকে নিশানা করছে, তা বুঝতে সময় নেননি রাহুল। আসামে এক সভায় নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, কেউ দেশবিরোধী স্লোগান দিলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে আপত্তি নেই। কিন্তু তা বলে গোটা জেএনইউকে কেন দেশবিরোধী বলা হবে? সূত্র: আনন্দবাজার।
/এমপি/বিএ/