তুরস্কের সরকার দেশটির শীর্ষ প্রচারসংখ্যার পত্রিকা জামান-এর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর বরিবার প্রকাশিত পত্রিকাটির সম্পাদকীয় নীতিতে ব্যাপক পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। সরকারী বিরোধী অবস্থানে থাকা এই পত্রিকায় শুরু হয়েছে সরকারের প্রশস্তি। তবে, পত্রিকাটির সাবেক কর্মীরা একই দিন একটি নতুন পত্রিকা প্রকাশ করে জামান-সমর্থকদের ওপর শনিবারের পুলিশের রক্তক্ষয়ী অভিযানের খবর ও ছবি ছেপেছে। এদিকে পত্রিকার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের নিন্দা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মহল। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এবং কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা খবরটি নিশ্চিত করেছে।
উল্লেখ্য, সরকারি আইনজীবীর আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত শুক্রবার জামান পত্রিকায় প্রশাসক নিয়োগের নির্দেশ দিলে সরকার তা কার্যকর করে। সেদিনই মধ্যরাতে ইস্তাম্বুলের প্রধান কার্যালয়ে পুলিশ পাঠিয়ে সরকার পত্রিকাটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। প্রধান সম্পাদকসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মীকে বরখাস্ত করা হয়। এ সময় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে।
বরিবার প্রকাশিত জামান পত্রিকার ভাবধারা ছিল সরকারপন্থী। এর প্রথম পৃষ্ঠায় প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ছবি সম্বলিত খবর ছাপা হয়েছে। তাঁর বসফরাস প্রণালির ওপর তৃতীয় সেতুর শেষ অংশের কাজ উদ্বোধন করার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। এর শিরোনাম দেওয়া হয়, ‘সেতু নিয়ে ঐতিহাসিক উত্তেজনা’। তবে নিয়ন্ত্রণ আরোপের আগেরদিন পুলিশি অভিযানের মধ্যে গত শনিবার প্রকাশিত সংস্করণে দিনটিকে তুরস্কের গণমাধ্যমের ইতিহাসে অন্যতম ‘কালো দিন’ বলা হয়।
এদিকে জামান পত্রিকাটির সাবেক কর্মীরা গতকাল রাতারাতি ইয়ারিনা বাকিস নামে একটি নতুন পত্রিকা প্রকাশ করেন। এর প্রথম পাতায় জামান কার্যালয়ের সামনে পুলিশের টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপের ছবি দিয়ে লেখা হয়, ‘জলকামান, টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট যথেষ্ট নয়। তাঁকে বের করে দাও।’
সরকারের এ উদ্যোগে তুরস্কে প্রচারমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্রমেই কমে আসা নিয়ে নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক মহল এ ঘটনার নিন্দা করেছে। তবে সরকারি হস্তক্ষেপের অভিযোগ অস্বীকার করে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী আহমেত দাভোতোগলু বলেন, পত্রিকাটি প্রশাসকের হাতে অর্পণের উদ্যোগ ‘বৈধ, এটি রাজনৈতিক নয়।’
আদালত কেন প্রশাসক নিয়োগের নির্দেশ দিলো, তার কারণ উল্লেখ করেননি। তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, জামান পত্রিকার সঙ্গে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সমালোচক যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ফেতুল্লাহ গুলেনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ফেতুল্লার সঙ্গে সন্ত্রাসের যোগসূত্র আছে বলে অভিযোগ করে আসছে সরকার। সূত্র: বিবিসি, আলজাজিরা
/বিএ/