জাপানের আকাশসীমায় চীনা গুপ্তচর বিমানের অনুপ্রবেশ 

জাপান তাদের আকাশসীমায় একটি চীনা গুপ্তচর বিমান অনুপ্রবেশের অভিযোগ করেছে। সোমবার (২৬ আগস্ট) আন্তর্জাতিক সময় ২টা ২৯ মিনিটে বিমানটির উপস্থিতি লক্ষ্য করেছে কর্তৃপক্ষ। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

দাঞ্জো দ্বীপমালার আকাশসীমায় একটি ওয়াই-৯ নজরদারি বিমান দু’মিনিটের জন্য দেখা যায়। এরপর জাপান তাদের যুদ্ধ বিমান গুলোকে সক্রিয় করে। এ ধরনের অনুপ্রবেশের প্রথম জ্ঞাত ঘটনা এটি।
আঞ্চলিক উত্তেজনা চলমান থাকাকালেই এই ঘটনা সামনে এলো। এই অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার নিয়ে জাপানসহ যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে চীন।

জাপানের মুখ্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব এই অনুপ্রবেশকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছেন। প্রতিবাদস্বরূপ চীনা দূতাবাসের একজন কর্মকর্তাকে টোকিওতে তলব করা হয়েছে।

জাপানি প্রচারমাধ্যম এনএইচকে জানিয়েছে, অনুপ্রবেশকারী বিমানটিকে সতর্ক করেছিল কর্তৃপক্ষ। তবে কোনও অস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি।

অবশ্য এই ঘটনায় উদ্বেগ বেড়েছে।

চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান রয়টার্সকে জানিয়েছেন, কোনও দেশের আকাশ সীমা লঙ্ঘনের উদ্দেশ্য তাদের নেই। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো কাজ করে যাচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে পূর্ব চীন সাগরে সেনকাকু দ্বীপে চীনা জাহাজের উপস্থিতি নিয়েও বিবাদে জড়িয়েছিল দেশ দু’টি। চীন এই দ্বীপকে দিয়াইয়ুস নামে অভিহিত করে। উভয় দেশই এর মালিকানা দাবি করে থাকে। এই দ্বীপমালা জনশূন্য হলেও জ্বালানি তেল ও গ্যাসের মজুদ রয়েছে। এজন্য এই এলাকা নিয়ে চীনের সঙ্গে তার প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরোধ রয়েছে। এছাড়া জাপানের ওকিনাওয়া, তাইওয়ান, ফিলিপাইন ও দক্ষিণ কোরিয়াতে মার্কিন সেনাবাহিনীর উপস্থিতি উত্তেজনার আরেকটি কারণ।

ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরের চীনা পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ইয়ান চং বলেছেন, ‘এই সর্বশেষ অনুপ্রবেশের ঘটনা বেশ আশঙ্কাজনক। কেননা জাপানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করতে চীনকে আগে দেখা যায়নি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাইওয়ান ও ফিলিপাইনের প্রতি চীনের কার্যকলাপ বিবেচনায় নিলে এই ঘটনাটি সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে হবে।’