গাজায় জাতিসংঘ কর্মী হত্যায় জবাবদিহির অভাব ‘অগ্রহণযোগ্য’: গুতেরেস  

গাজা উপত্যকায় জাতিসংঘ কর্মী ও মানবিক সহায়তা প্রদানকারীদের হত্যায় জবাবদিহির অভাবকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন । ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

গাজায় চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসন সম্পর্কে গুতেরেস বলেছেন, ‘গাজায় যা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। এখানে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের মারাত্মক লঙ্ঘন হচ্ছে। বেসামরিকদের জীবনের নিরাপত্তা এখানে একদম অনুপস্থিত।’

গত বছর ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা চালায় হামাস। এতে অন্তত ১২ শ’ জন নিহত ও ২৫০ জনকে জিম্মি করা হয়েছে বলে ইসরায়েল দাবি করে আসছে। এর জবাবে শুরু করা ইসরায়েলি আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪১ হাজার ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন বলে গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সম্মেলনের আগে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে বিগত বছরকে ‘অত্যন্ত কঠিন’ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

এদিকে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করে আসছে, বেসামরিকদের জানমালের ক্ষতি হ্রাস করতে তারা সবসময় সতর্ক। আর গাজায় হতাহতের অন্তত এক তৃতীয়াংশই সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য। বেসামরিক নাগরিক হত্যা বিষয়ে তাদের দাবি, হামাস নিরস্ত্রদের মানব-ঢাল হিসেবে ব্যবহার করায় এত প্রাণহানি হয়। এই অভিযোগ হামাস বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।

সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩ শ’ মানবিক সহায়তা প্রদানে নিয়োজিত ব্যক্তিও নিহত হয়েছেন। তাদের অন্তত দুই তৃতীয়াংশ জাতিসংঘের কর্মী।

গুতেরেস বলেছেন, এসব প্রাণহানির যথাযথ তদন্ত ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা উচিত। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের আদালত আছে। কিন্তু আদালতের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানোর প্রবণতা দেখা যায় না। জবাবদিহি না থাকার এই সংস্কৃতি একদমই কাম্য নয়’

জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত, ‘ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অফ জাস্টিস’ (আইসিজে), জুলাই মাসে তাদের রায়ে বলেছিল, ফিলিস্তিনিদের এলাকায় ইসরায়েলি আগ্রাসন সম্পূর্ণ অবৈধ। এটি তাৎক্ষণিক বন্ধ হওয়া উচিত। ১৯৩ সদস্যের সাধারণ পরিষদে আগামী সপ্তাহে এই ইস্যুতে ভোট হওয়ার কথা রয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে সেনা প্রত্যাহার করতে ইসরায়েলকে ছয় মাসের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া যাবে।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি বলে জানিয়েছেন গুতেরেস। ৭ অক্টোবর থেকেই জাতিসংঘকে ইসরায়েল-বিরোধী আখ্যা দিয়ে আসছেন নেতানিয়াহু। গত বছর জাতিসংঘে তাদের সাক্ষাৎ হয়েছিল। নেতানিয়াহু চাইলে আবারও সাক্ষাতে আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব।

তিনি বলেছেন, ‘তিনি (নেতানিয়াহু) ফোন ধরেননি বলে আমাদের কথা হয়নি। আমার পক্ষ থেকে তো সমস্যা নেই! তিনি যদি নিউ ইয়র্কে এসে (জাতিসংঘ সম্মেলন) আমার সঙ্গে কথা বলতে চান, আমি সানন্দে রাজি হব।’

এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জাতিসংঘে ইসরায়েলের দূত ড্যানি ড্যানন বলেছেন, নেতানিয়াহুর শিডিউল এখনো চূড়ান্ত হয়নি।