ইউক্রেন পশ্চিমাদের তৈরি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে রাশিয়ায় হামলা করলে যুদ্ধ বেঁধে যাবে। বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) এক বক্তব্যে এমনটাই হুমকি দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বলেছেন, এসব অস্ত্র দিয়ে রাশিয়ার অভ্যন্তরে হামলা চালালে তা হবে মস্কোর বিরুদ্ধে পশ্চিমা বিশ্বের যুদ্ধ ঘোষণা। এই বিষয়ে পুতিনের করা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে আগ্রাসী মন্তব্য ছিল এটি। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
তিনি বলেছেন, এই পদক্ষেপ নিলে কিয়েভকে দূর পাল্লার অস্ত্র সরবরাহকারী দেশগুলো সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে যাবে। কারণ এই ধরণের অস্ত্র ব্যবহারে স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া তথ্যের পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ নিয়ন্ত্রণের সফটওয়্যার প্রয়োজন হয়। এ কাজে দক্ষতা ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ইউক্রেনের নেই। তাই কাজগুলো করতে হবে ন্যাটো জোটের মাধ্যমে।
রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যমে পুতিন বলেছেন, ‘এসব অস্ত্র দিয়ে রাশিয়ায় হামলা করতে ইউক্রেনকে সম্মতি দেওয়ার মধ্যে বিষয়টি আর সীমাবদ্ধ নেই। আসল প্রশ্ন হচ্ছে, সামরিক সংঘর্ষে ন্যাটো সদস্যরা জড়াবে কি না।’
ইউএস এটিএসিএমএস, ব্রিটিশ স্টর্ম শ্যাডোর মত পশ্চিমা ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে রাশিয়ার অভ্যন্তরে হামলা করে মস্কোর আক্রমণ সক্ষমতা হ্রাস করতে চায় কিয়েভ। এজন্য প্রয়োজন ইউক্রেনের পশ্চিমা মিত্রদের সম্মতি। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দীর্ঘদিন ধরেই মিত্রদের কাছে এই সবুজ সংকেতের অনুরোধ জানিয়ে আসছিলেন।
পুতিন আরও বলেছেন, ‘যদি তারা এই পথেই আগানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে ইউক্রেন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও তার ইউরোপীয় অন্যান্য মিত্রসহ ন্যাটো জোট সরাসরি জড়িয়ে পড়বে। এই প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের ফলে অবশ্যই যুদ্ধের প্রকৃতি পালটে যাবে।’
পরিস্থিতি যদি সেদিকে মোড় নেয়, তবে হুমকি সামলাতে রাশিয়া ‘যথাযথ পদক্ষেপ’ নিবে বলে সতর্ক করেছেন পুতিন।
অবশ্য এসব পদক্ষেপের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি তিনি। তবে আগে এক বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন, ইউক্রেনের মিত্রদের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর প্রয়োজন হলে পশ্চিমা বিশ্বের শত্রুদের অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত করবে রাশিয়া। আবার জুন মাসে তিনি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার ইউরোপীয় মিত্র দেশের কাছাকাছি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করার কথা বিবেচনা করছেন তিনি।