আইএসের ‘যুদ্ধমন্ত্রী’ শিশানি ‘ক্লিনিক্যালি ডেড’

সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে মার্কিন বিমান হামলার পর থেকে বেশ কিছুদিন ধরে ইসলামিক স্টেটের জ্যেষ্ঠ নেতা আবু ওমর আল-শিশানি ‘ক্লিনিক্যালি ডেড’ অবস্থায় রয়েছেন। সিরিয়ায় যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস এই তথ্য জানিয়েছে।

এরআগে গত ৮ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগনের তরফে জানানো হয়, সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের (আইএস) শীর্ষস্থানীয় কমান্ডার আবু উমর আল শিশানিকে টার্গেট করে বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনী। গত ৪ মার্চ ওই হামলা চালানো হয়। মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, হামলায় তার মৃত্যু হয়েছে। শিশানিকে আইএসের ‘যুদ্ধমন্ত্রী’ হিসেবে বিবেচনা করে পেন্টাগন।

আবু ওমর আল-শিশানি

আর রবিবার সিরিয়ান অবজারভেটরির প্রধান রামি আবদেল রহমান বলেছেন, শিশানির শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্যও যন্ত্রের প্রয়োজন পড়ছে। তিনি বেশ কিছুদিন ধরে ‘ক্লিনিক্যালি ডেড’ অবস্থায় রয়েছেন। তিনি আরও জানান, চেচেন জাতিসত্তার ওই আইএস কমান্ডার সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ রাকার একটি হাসপাতালে রয়েছেন।

আর মার্কিন কর্মকর্তারা আবারও জানিয়েছেন, চলতি মাসের ৪ তারিখে চালানো মার্কিন বিমান হামলায় শিশানি গুরুতর আহত হন এবং সম্ভবত ৯ তারিখে তার মৃত্যু হয়। ওই মার্কিন কর্মকর্তা তাকে ‘আইএসের প্রতিরক্ষামন্ত্রী সমপর্যায়ের’ বলে উল্লেখ করেন। যদিও আইএস-এর কাঠামোয় শিশানির প্রকৃত পদমর্যাদা সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব হয়নি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্যা গার্ডিয়ান জানিয়েছে, শিশানি আইএসের রাজনৈতিক নেতা নন। তবে সামরিক কাঠামোতেও তার পদমর্যাদা স্পষ্ট নয়। সিরিয়ায় স্থল অপারেশনে মার্কিন বাহিনী ভারী মাত্রায় মোতায়েন না থাকায় এবং বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের অভাবে এর আগেও বেশ কয়েকবার শিশানির নিহত হওয়ার সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছিল বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

আল শিশানি, ওমর দ্য চেচেন নামেও পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গিদের তালিকায় তার নাম রয়েছে। সেখানে তাকে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সরিয়ে দেওয়ায় সহায়তা করতে তথ্যের জন্য পাঁচ মিলিয়ন ডলার পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছে।

সিরিয়ার আল শাদাদি শহরের কাছে শিশানি’র অবস্থান লক্ষ্য করে জঙ্গিবিমান ও ড্রোন ব্যবহার করে উপর্যুপরি হামলাটি চালানো হয়। পেন্টাগনের ধারণা, গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন সমর্থিত সিরীয় আরব জোট বাহিনীর হাতে আল শাদিদ শহর পতনের পর আইএস যোদ্ধাদের উজ্জীবিত করতে শিশানিকে সেখানে পাঠানো হয়।


১৯৮৬ সালে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের জর্জিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন শিশানি। আইএসে তিনি প্রধান আবু বকর আল বাগদাদির ঘনিষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বাগদাদির লড়াইয়ের কৌশল নির্ধারণে অনেক ক্ষেত্রেই শিশানির ওপর নির্ভরশীল ছিল। তিনি আইএসের কথিত রাজধানী সিরিয়ার রাকা শহরে একটি কারাগারের তত্ত্বাবধান করতেন। ধারণা করা হয়, এই কারাগারটিতে আইএসের হাতে আটক বিদেশি বন্দীদের রাখা হয়। সূত্র: গার্ডিয়ান, ইন্ডিপেনডেন্ট, বিবিসি।

/এসএ/বিএ/