জলবায়ু সম্মেলন আয়োজনকারী দেশের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জীবাশ্ম জ্বালানি চুক্তির অভিযোগ

আসন্ন কপ-২৯ এর আয়োজক দেশ আজারবাইজানের এক কর্মকর্তা নতুন জীবাশ্ম জ্বালানি চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। গোপনে ধারণ করা একটি ভিডিওতে সম্মেলনের আগে বিতর্কিত এই বিষয়টি উঠে এলো। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

বিবিসির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করা অলাভজনক প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল উইটনেস একটি ভুয়া কোম্পানি গঠন করেছিল। এই কোম্পানি আজারবাইজানের জাতীয় তেল ও গ্যাস কোম্পানি সোকার-এ বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করে। তারাই ওই ভিডিও ধারণ করেছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, বাকুতে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন মোকাবিলা নিয়ে আলোচনার জন্য কপ-২৯ এর সিইও এলনুর সোলটানোভ ওই ভুয়া তেল ও গ্যাস কোম্পানি ইসি ক্যাপিটাল ও সোকারের মধ্যে মধ্যস্থতা করিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেন।

ভিডিওতে সোলটানোভকে বলতে দেখা যায়, ‘আমাদের অনেক পাইপলাইন অবকাঠামো আছে। উন্নয়নযোগ্য অনেক গ্যাসক্ষেত্রও রয়েছে।’

ভিডিওটি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স।

সোলতানভ আরও বলেছেন, এখানে অনেক যৌথ উদ্যোগের সম্ভাবনা রয়েছে। সোকার ট্রেডিং এশিয়াসহ বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাস ব্যবসা করছে। তাই এ বিষয়ে সোকারের সঙ্গে কথা বলা প্রয়োজন। আমি আপনাদের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারলে খুশি হব।’

গ্লোবাল উইটনেস জানিয়েছে, পরবর্তীতে সোকার থেকে ওই ভুয়া কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করে বৈঠকের আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।

এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করলে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি সোলটানোভ। এছাড়া, সোকারের প্রতিনিধিদেরও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।

কপ ২৯-এর আয়োজনের দায়িত্বে রয়েছেন দেশটির পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রী বাবায়েভ। তিনিও এ বিষয়ে রয়টার্সের কাছে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

আজারবাইজানের অর্থনীতির প্রায় অর্ধেকই তেল ও গ্যাস থেকে আসে। দেশটির ৯০ শতাংশ রফতানি এ খাতের ওপর নির্ভরশীল।

জলবায়ু রিপোর্টিং সেন্টারের গত বছর ফাঁস হওয়া কিছু প্রতিবেদনে দেখা যায়, জলবায়ু সম্মেলনের আগে গ্যাসসহ অন্যান্য বাণিজ্যিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে চেয়েছিল কপ ২৮ এর আয়োজক দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।

গ্লোবাল উইটনেসের সিনিয়র কর্মকর্তা সায়মন রোচ বলেছেন, ‘জলবায়ু সম্মেলন আয়োজনের সুযোগে তেলসমৃদ্ধ  কোনও দেশ যদি দ্বিতীয়বারের মতো নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির চেষ্টা করে, তবে এটি জাতিসংঘ ও এ ধরনের আয়োজনের নিয়মকানুন নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করবে।’