ভারতের উত্তরাঞ্চলে বেশিরভাগ এলাকা ঘন বিষাক্ত ধোঁয়াশায় ঢেকে গেছে। দেশটির রাজধানী দিল্লিতে সোমবার (১৮ নভেম্বর) বায়ুর মান এ বছর সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় পৌঁছেছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় শিক্ষা কার্যক্রম অনলাইনে চালানোর নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
দিল্লির বাতাসে দূষণের মাত্রা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ২৪ ঘণ্টার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) মান হয়েছে ৪৮৪। এই মান 'চরম বিপজ্জনক' শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। সুইস সংস্থা আইকিউএয়ারের লাইভ র্যাংকিং অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহর হিসেবে শীর্ষে রয়েছে দিল্লী। শহরের বায়ুতে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ধূলিকণার (পিএম টু পয়েন্ট ফাইভ) উপস্থিতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিত মাত্রার ১৩০ গুণ বেশি পাওয়া গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতকালে ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে ধূলিকণা, গাড়ির ধোঁয়া ও আশপাশের রাজ্যগুলোতে ফসল কাটার পর অবশিষ্টাংশ পোড়ানোর ধোঁয়া আটকে থাকে। এতে ধোঁয়াশার (স্মগ) সৃষ্টি হয়।
সোমবার দিল্লি ও চণ্ডীগড় শহরে স্বাভাবিক দৃষ্টিসীমা মাত্র ১০০ মিটারে নেমে আসে। তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কিছুটা বিলম্ব সত্ত্বেও বিমান ও ট্রেন চলাচল অব্যাহত আছে।
চলমান পরিস্থিতিতে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম অনলাইনে চালানোর নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি নির্মাণকাজ ও যানবাহন চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
দেশটির উত্তর প্রদেশ, হরিয়ানা ও রাজস্থানে 'ঘন থেকে অতি ঘন কুয়াশা'র পূর্বাভাস দিয়েছে ভারতের আবহাওয়া অধিদফতর।
বায়ু দূষণ থেকে রক্ষা পেতে মাস্ক পরে চলাচল করছেন সাধারণ জনগণ। দিল্লির বাসিন্দা অক্ষয় পাঠক ভারতীয় বার্তাসংস্থা এএনআই-কে বলেছেন, সকালের হাঁটাচলা সাধারণত উপভোগ করেন তিনি। কিন্তু এখন দূষিত বাতাসে চোখ জ্বালাপোড়া করে ও শ্বাস নিতে সমস্যা হয়।
আবহাওয়া পূর্বাভাস দানকারী সরকারি সংস্থা সাফার জানিয়েছে, দিল্লির দূষণের ৪০ শতাংশের জন্য পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলোর কৃষি জমিতে খড় পোড়ানো দায়ী। রবিবার স্যাটেলাইটে ছয়টি রাজ্যে এক হাজার ৩৩৪টি এমন ঘটনা চিহ্নিত করেছে কর্তৃপক্ষ।
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, বায়ুদূষণের এই চরম অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিতে পারে।