চীনে প্রাইমারি স্কুলের সামনে গাড়ি চাপায় আহত একাধিক

চীনের একটি প্রাইমারি স্কুলের বাইরে ভিড়ের ওপর গাড়ি উঠিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, গাড়ির ধাক্কায় কয়েকজন শিক্ষার্থী ও প্রাপ্তবয়স্ক আহত হয়ে মাটিতে পড়ে গেছেন। এখনও হতাহতের বিষয়ে তথ্য জানা যায়নি। আহতদের অনেককে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির নাম ইয়োঙান প্রাইমারি স্কুল। এটি হুনান প্রদেশের ডিংশেং জেলায় অবস্থিত।

দুর্ঘটনার পর অভিভাবক ও স্কুলের নিরাপত্তা কর্মীরা সাদা রঙের ওই এসইউভি থামাতে সমর্থ হন। সন্দেহভাজন চালককে তারা পুলিশে সোপর্দ করেছেন।

স্কুলের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বিবিসিকে বলেছেন, 'সন্তানকে স্কুলে নামিয়ে দিয়ে চলে যাচ্ছিলাম। তখনই স্কুল প্রাঙ্গণের বাইরে গোলমালের শব্দ শুনি। ছয় থেকে সাতজন অভিভাবক গাড়িটিকে ঘিরে ধরে থামিয়ে ফেলেন। দুর্ঘটনায় স্কুলের নিরাপত্তা কর্মীও আহত হয়েছেন। লোকটির বয়স অনেক, প্রায় সত্তর-আশির কাছাকাছি। তাই তার পক্ষে খুব বেশি কিছু করা সম্ভব হয়নি।

তিনি আরও বলেন, প্রায় ডজনখানেক মানুষ আহত হয়েছেন। যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। তবে ভাগ্য ভালো বলতে হবে যে, তাড়াতাড়ি একটি অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছে গিয়েছিল।

ঘটনাস্থলে ধারণ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকটি শিশু মাটিতে পড়ে আছে। ভীতসন্ত্রস্ত শিক্ষার্থীরা তাদের ব্যাগ নিয়ে দৌড়াচ্ছে।

ধারণকৃত আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক উত্তেজিত পথচারী গাড়িটিতে একটি শাবল দিয়ে আঘাত করছেন। চালক তখনো গাড়ির ভেতরে ছিলেন। গাড়ি থেকে নেমে চালক পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে উপস্থিত জনতা তাকে লাঠিপেটা করেন।

সন্দেহভাজন চালক বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে আছেন।

গত এক সপ্তাহে দেশটিতে কোনও ভিড়ের ওপর আক্রমণের দৈব ও সন্দেহজনক তৃতীয় ঘটনা এটি। ১২ নভেম্বর চীনের দক্ষিণাঞ্চলে গাড়িচাপায় অন্তত ৩৫ জন নিহত হন। পরদিনই দেশটির পূর্বাঞ্চলে একটি স্কুলে ছুরিকাঘাতে আটজন প্রাণ হারান।

চীনের সামাজিক মাধ্যমে এখন আলোচনার বিষয়বস্তু হলো 'সমাজের ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার প্রবণতা'। এই তত্ত্বমতে, ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে অচেনা লোকজনের ওপর হামলা করার ঘটনা বাড়ছে চীনে।

চীনে সম্প্রতি জনসমাগমের ওপর উদ্দেশ্যহীন হামলার ঘটনা বেড়ে চলেছে। ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে সংঘটিত এই হামলাগুলো দেশের সামাজিক অবস্থা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। বিশ্লেষকরা বিষয়টিকে সমাজের অভ্যন্তরীণ চাপ ও মানসিক স্বাস্থ্য সংকটের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।