নতুন পারমাণবিক নীতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করলেন পুতিন 

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) এক সতর্কবার্তায় বলেছেন, পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার নীতি শিথিল করেছে মস্কো। ক্রেমলিনের মতে, এই পরিবর্তন সম্ভাব্য শত্রুদের স্পষ্ট বার্তা দেয় যে, রাশিয়ার ওপর যে কোনো আক্রমণের জবাবে পাল্টা আঘাত অনিবার্য। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে আক্রমণের ক্ষেত্রে প্রতিশোধের অনিবার্যতাকে বোঝানোই এই নীতির মূল উদ্দেশ্য।

এই হালনাগাদকৃত নীতিমালা, 'পারমাণবিক হামলা প্রতিরোধে রাষ্ট্রের মৌলিক নীতিমালা' নামে পরিচিত। ২০২০ সালে প্রণীত আগের নীতিমালার তুলনায় এই হালনাগাদটির আওতা আরও বিস্তৃত। নতুন নীতিতে রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রচলিত অস্ত্রের আক্রমণকেও অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর অর্থ, কেবল পারমাণবিক আক্রমণ নয়, প্রচলিত অস্ত্র ব্যবহারের আক্রমণও রাশিয়ার কঠোর প্রতিক্রিয়া ডেকে আনতে পারে।

এছাড়া, রাশিয়া ও তার মিত্র বেলারুশের বিরুদ্ধে প্রচলিত অস্ত্র দিয়ে হামলাকেও মারাত্মক হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, রাশিয়া ও তার মিত্রদের ওপর কোনো পরমাণু শক্তিবিহীন রাষ্ট্র  যদি একটি পারমাণবিক রাষ্ট্রের সহায়তায় হামলা করে, তবে সেটি যৌথ আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে।

এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে যখন মার্কিন প্রশাসন  ইউক্রেনকে রাশিয়ার গভীরে মার্কিন দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ক্রেমলিনের নতুন নীতি মূলত এই ধরনের পদক্ষেপের জবাবে নিজেদের কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করার উদ্দেশ্যেই নেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ ইউক্রেন যুদ্ধে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। ক্রেমলিন বলেছে, তারা পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। রুশ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইউক্রেনের এই অস্ত্র সরবরাহ সরাসরি রাশিয়ার নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে।

পুতিনের এই নীতিগত পরিবর্তনের অংশ হিসেবে, রাশিয়া দেশব্যাপী মোবাইল বোমা শেল্টার নির্মাণ শুরু করেছে। ক্রেমলিনের দাবি, জনগণকে পারমাণবিক হুমকি থেকে সুরক্ষা দেওয়ার চেষ্টাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পরিবর্তন পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি রাশিয়ার একটি ‘রেড লাইন’ নির্দেশ করছে। রাশিয়া এর মাধ্যমে স্পষ্ট করতে চাইছে যে, হুমকির মুখে তারা প্রতিরোধ নীতি সক্রিয় করবে, যা প্রতিপক্ষের জন্য ধ্বংসাত্মক হতে পারে।

ইউক্রেন যুদ্ধ বর্তমানে ১,০০০ দিনে পা রেখেছে। এ যুদ্ধ শুধু ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে রাশিয়ার উত্তেজনার মাত্রাও বাড়িয়ে তুলেছে। বিশেষত, পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান মতবিরোধ নতুন করে বিশ্ব রাজনীতিতে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।

রাশিয়ার এই নীতিগত পরিবর্তনকে বিশেষজ্ঞরা বৈশ্বিক শান্তির জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে দেখছেন। এর মাধ্যমে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ঝুঁকি বাড়ছে এবং বিশ্বে নতুন করে অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ক্রেমলিন বলছে, পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত একমাত্র প্রেসিডেন্ট পুতিনের হাতে। তবে এই নীতিগত পরিবর্তন রাশিয়ার অবস্থানকে আরও কঠোর করেছে এবং পশ্চিমা বিশ্বের কাছে একটি শক্তিশালী সতর্কবার্তা পৌঁছে দিয়েছে।