ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অগ্রগতি দ্রুততর হচ্ছে, যা যুদ্ধকে এক জটিল ও সংকটপূর্ণ পর্যায়ে নিয়ে গেছে। ইন্সটিটিউট ফর দ্য স্টাডি অফ ওয়ার (আইএসডব্লিউ)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে রাশিয়া প্রায় ছয় গুণ বেশি ভূমি দখল করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
ডনবাস অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ কেন্দ্রগুলোর দিকে রাশিয়ার লক্ষণীয় অগ্রগতি অর্জন করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছর রুশ সেনারা ২ হাজার ৭০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা দখল করেছে, যেখানে ২০২৩ সালে তা ছিল মাত্র ৪৬৫ বর্গকিলোমিটার। সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া এই প্রবণতার গতি সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
রাশিয়ার এই অগ্রগতির প্রেক্ষাপটে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিছু ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। বিশেষত খারকিভের কুপিয়ানস্ক ও ডোনেস্কের পোকরভস্কের মতো অঞ্চলগুলোতে রাশিয়ার উপস্থিতি বাড়ছে। ২০২২ সালে ইউক্রেনের উদ্ধার করা কিছু অঞ্চল আবার রুশ নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।
ইউক্রেনের প্রতিরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ভুহলেদার রুশ আক্রমণের কেন্দ্রে রয়েছে। দক্ষিণ ও পূর্ব থেকে রুশ আক্রমণ প্রতিহত করলেও, উত্তর ও পশ্চিম থেকে এলাকাটি ঘেরাও করার চেষ্টা চালাচ্ছে রাশিয়া।
আইএসডব্লিউ-এর মতে, বর্তমানে ইউক্রেনের ১ লাখ ১০ হাজার ৬৪৯ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে রাশিয়া। তবে এই সাফল্যের জন্য মস্কোকে চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে। বিবিসি রুশ বিভাগের এক বিশ্লেষণে জানা গেছে, ২০২২ সালে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ৭৮ হাজার ৩২৯ জন রুশ সেনা নিহত হয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাশিয়া 'মাংস পেষণ যন্ত্রের মতো' একটি কৌশল গ্রহণ করেছে, যেখানে তরুণ সেনাদের ব্যাপকহারে সম্মুখসারিতে পাঠানো হয়। এই কৌশল সামরিক সাফল্য এনে দিলেও মানবসম্পদের ওপর বড় প্রভাব ফেলছে।
এদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের আসন্ন দ্বিতীয় প্রশাসন যুদ্ধের গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জানুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি যুদ্ধ সমাপ্তির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। অনেকের ধারণা, তিনি ইউক্রেনের জন্য মার্কিন সামরিক সহায়তা হ্রাস বা বন্ধ করে দিতে পারেন।
কুরস্ক অভিযানে ইউক্রেনের শুরুর দিকের সাফল্য এখন সীমিত হয়ে পড়েছে। রাশিয়া সেখানে ৫০ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে ও পাল্টা আক্রমণে ৫৯৩ বর্গকিলোমিটার এলাকা পুনরুদ্ধার করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়ার বর্তমান সামরিক সাফল্য ভবিষ্যৎ শান্তি আলোচনায় তাদের কৌশলগত সুবিধা তৈরি করতে পারে। তবে এই সংঘাতের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসনের পদক্ষেপের ওপর।