নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন যদি কিয়েভের প্রতি সমর্থন কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তা ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর জন্য 'মৃত্যুদণ্ডের' সমতুল্য হবে। বুধবার (২৭ নভেম্বর) এই মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘে রাশিয়ার ডেপুটি অ্যাম্বাসেডর দিমিত্রি পলিয়ান্সকিয়ি। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পলিয়ান্সকিয়ি বলেছেন, ইউক্রেনে সামরিক সহায়তা কমিয়ে দেওয়া নিয়ে ট্রাম্পের হুমকি দেশটির সেনাবাহিনীর জন্য কার্যত মৃত্যু পরোয়ানার মতো। এটি স্পষ্ট হয়ে উঠছে যে ট্রাম্প ও তার দল কিয়েভকে দেওয়া সহায়তার একটি পর্যালোচনা করবেন।
তিনি অভিযোগ করেছেন , ইউক্রেনে সমর্থন বৃদ্ধি করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বাইডেন প্রশাসন। আর ন্যাটো দেশগুলোকে রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করছে কিয়েভ।
পলিয়ান্সকিয়ির মন্তব্যের বিষয়ে ট্রাম্পের ট্রানজিশন টিম তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
বিষয়টি সম্পর্কে জ্ঞাত তিনটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল কিথ কেলোগকে ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে বিবেচনা করছেন ট্রাম্প। তিনি একটি শান্তি পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছেন।
কেলোগের পরিকল্পনায় যুদ্ধের সমাপ্তির জন্য বর্তমানে যুদ্ধক্ষেত্রের সীমারেখা অপরিবর্তিত রেখে কিয়েভ ও মস্কোকে আলোচনার টেবিলে নিয়ে আসার প্রস্তাব রয়েছে।
পলিয়ান্সকিয়ি বলেছেন, রাশিয়া বারবার আলোচনা করতে চেয়েছে। কিন্তু ইউক্রেন ও তাদের পশ্চিমা সমর্থকরা দ্বন্দ্ব কেবল বৃদ্ধি করেছে।
তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীকে রাশিয়ার অভ্যন্তরে দীর্ঘ পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার মাধ্যমে বিশ্বকে পারমাণবিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে বাইডেন প্রশাসন ও তার ইউরোপীয় মিত্ররা।
তিনি বলেছেন, পশ্চিমের প্রতিটি ধাক্কা দৃঢ়তার সঙ্গে মোকাবিলা করা হবে। যে দেশগুলো রুশ স্থাপনায় অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দেয়, তাদের সামরিক স্থাপনার ওপর অস্ত্র ব্যবহারের অধিকার রয়েছে মস্কোর রয়েছে।
ওই অধিবেশনে এর আগে বক্তব্য দেন জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব মিরোস্লাভ ইয়েনকা। তিনি ইউক্রেনে সাম্প্রতিক দীর্ঘ পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে রুশ হামলার কথা তুলে ধরেন। সেখানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে অভিহিত করেন।
জাতিসংঘে মার্কিন ডেপুটি অ্যাম্বাসেডর রবার্ট উড অধিবেশনে বলেন, ইউক্রেনকে শক্তিশালী করতে ও যুদ্ধক্ষেত্রে সর্বোত্তম অবস্থানে রাখতে এর সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিশেষত বিমান প্রতিরক্ষা সহ নিরাপত্তা সহায়তা, অব্যাহত থাকবে।