সিরিয়ার বিদ্রোহীরা মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) ভোরে চারটি নতুন শহর দখল করেছে। সরকারবিরোধী অ্যাক্টিভিস্টদের দাবি, এর মাধ্যমে বিদ্রোহীরা কেন্দ্রীয় শহর হামার আরও নিকটে পৌঁছে গেলো। তবে সরকারি বাহিনী গত সপ্তাহে হারানো কিছু ভূখণ্ড ফিরে পেয়েছে। মার্কিন বার্তাসংস্থা এপি এ খবর জানিয়েছে।
সালাফি গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শাম ও তুরস্ক সমর্থিত বিরোধীদের নেতৃত্বে এই শহরগুলো দখল বিদ্রোহীদের সর্বশেষ অগ্রগতি। বিদ্রোহীরা এখন হামা থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে।
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বিরোধীরা এখন দেশের উত্তর ইদলিব প্রদেশের দক্ষিণাঞ্চল ও দেশের বৃহত্তম শহর আলেপ্পোর বড় অংশসহ অনেক শহর ও গ্রামে তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে।
বিদ্রোহীদের সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কেন্দ্রীয় শহর হাফায়া, তাইবাত আল ইমাম, মারদিস ও সোরান দখলের সময় ৫০ জন সরকারি সেনা নিহত হয়েছেন। যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস এই শহরগুলো দখলের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
সরকারপন্থি সংবাদমাধ্যম দামা পোস্ট জানিয়েছে, এই শহরগুলো ও এর আশপাশে তীব্র সংঘর্ষ চলছে। সরকারি বাহিনীর সদস্যরা সেখানে বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে আর্টিলারি শেল নিক্ষেপ করছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, সিরিয়া ও রাশিয়ার বিমানবাহিনী ওই এলাকায় ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে।
অবজারভেটরি ও সরকারপন্থি সংবাদমাধ্যম উভয়ই জানিয়েছে, মঙ্গলবার খানাসের গ্রামের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করেছে সরকারি বাহিনী। কিছুদিন আগে তারা এর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল। আলেপ্পো যাওয়ার প্রধান রাস্তার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে খানাসের গ্রামটি অবস্থিত।
আসাদ সরকার ও তার সমর্থনকারী বিদেশি শক্তি ও তাদের সশস্ত্র বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর দীর্ঘ ১৩ বছরের সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন বলে অনুমান করা হচ্ছে।
পূর্বাঞ্চলে কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা সরকারি বাহিনীর কাছ থেকে সাতটি গ্রাম দখল করেছে। তবে, দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এসডিএফের দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, হামলা প্রতিহত করা হয়েছে ও গ্রামগুলো দখল হয়নি।
ইরাক সীমান্তের নিকটবর্তী ওই গ্রামগুলোতে মার্কিন সেনা ঘাঁটি রয়েছে।
মঙ্গলবার, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, সিরিয়ায় বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক দ্রুত অগ্রগতি দেখিয়ে দিচ্ছে যে প্রেসিডেন্ট আসাদকে জনগণের সঙ্গে পুনর্মিলন ঘটাতে হবে ও বিরোধী পক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে।
অন্যদিকে, আসাদ ও তার সরকারের কর্মকর্তাদের দাবি, বিরোধীদের সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক সমাধান খুঁজতে তারা রাজি নয়।
আসাদ বিরোধীদের প্রধান সমর্থক তুরস্ক সিরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে। এর উদ্দেশ্য হলো দক্ষিণ সীমান্তবর্তী কুর্দি সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর সৃষ্ট নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলা করা ও ৩০ লাখেরও বেশি সিরীয় শরণার্থীর নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করা। তবে আসাদ বলেছেন, তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার শর্ত হিসেবে উত্তর সিরিয়া থেকে তুর্কি সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার করতে হবে।