মেমফিস পুলিশের বিরুদ্ধে বর্ণবৈষম্যের অভিযোগ মার্কিন বিচার বিভাগের 

যুক্তরাষ্ট্রের মেমফিস পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ ও কৃষ্ণাঙ্গদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ তুলেছে দেশটির বিচার বিভাগ। বুধবার (৪ ডিসেম্বর) প্রকাশিত এক তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই মন্তব্য করা হয়। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেমফিস পুলিশের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে গাড়ি থামানো, তল্লাশি ও গ্রেফতারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া, অনেক পুলিশ কর্মকর্তার দ্বারা আচরণগত স্বাস্থ্য সমস্যায় ভোগা ব্যক্তি ও শিশুরা বৈষম্যমূলক আচরণ, হিংস্র ও ভীতিপ্রদ কার্যকলাপের শিকার হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

২০২৩ সালের জুলাইয়ে কৃষ্ণাঙ্গ মোটরচালক টাইর নিকোলসের মৃত্যুতে পুলিশের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা নিয়ে এই তদন্ত শুরু হয়। 

মেমফিস পুলিশ বিভাগ এই তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে মন্তব্য করতে সিটি হলকে দায়িত্ব দিয়েছে। সিটি হলের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার এই বিষয়ে তারা এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করবে।

টেনেসি অঙ্গরাজ্যের মেমফিস শহর পুলিশ বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের আহ্বান জানানো হয়েছে বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে। এর জবাবে মেমফিস সিটি অ্যাটর্নি ট্যানেরা গিবসন বিচার বিভাগকে লেখা এক চিঠিতে জানিয়েছেন, শহরের কর্মকর্তারা এখনই সংস্কার বিষয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত নন। প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করতে আরও সময় প্রয়োজন বলে অভিমত দিয়েছেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, তদন্তটি মাত্র ১৭ মাসে শেষ হয়েছে। সাধারণত এ ধরনের তদন্তে দুই থেকে তিন বছর সময় লাগে। এখানে দ্রুত সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

এদিকে, অক্টোবর মাসে টাইর নিকোলসের মৃত্যুতে তিনজন সাবেক মেমফিস পুলিশ কর্মকর্তাকে সাক্ষ্য বিকৃতির জন্য দোষী সাব্যস্ত করেছে ফেডারেল জুরি। তবে তারা সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ থেকে মুক্তি পাওয়ায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা থেকে মুক্তি পেয়েছেন। অন্য দুই সাবেক কর্মকর্তা আগে থেকেই দোষ স্বীকার করে সাবেক সহকর্মীদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

তিন সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে টেনেসির আদালতে সামনের এপ্রিলে হত্যা মামলার শুনানি হবে।

বিচার বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, মেমফিস পুলিশে কিছু সংস্কার হয়েছে। তবে এখনও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের প্রয়োজন।

বিচার বিভাগের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ক্রিস্টেন ক্লার্ক বলেন, মেমফিসের জনগণ এমন একটি পুলিশ বিভাগ ও প্রশাসন চায় যা নাগরিক ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা করবে ও তাদের নিরাপত্তা প্রদান করবে।