সিরিয়ার রাজধানীতে রবিবার (৮ ডিসেম্বর) তিনটি বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। হামলায় একটি নিরাপত্তা অবকাঠামো ও একটি সরকারি গবেষণা কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ স্থানগুলো ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নের জন্য ব্যবহার করত বলে অতীতে উল্লেখ করেছে তেল আবিব। দুই আঞ্চলিক নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
একইদিনে বিদ্রোহীরা সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সরকারকে উৎখাত করে। ইসরায়েলি হামলায় দামেস্কের কাফর সোউসা জেলার নিরাপত্তা অবকাঠামোর মধ্যে থাকা প্রধান কাস্টমস সদর দফতর ও সামরিক গোয়েন্দা কার্যালয়ের সঙ্গে লাগোয়া ভবনগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। গবেষণা কেন্দ্রটিতেও ক্ষতি হয়েছে বলে তারা জানিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানিয়েছে, হামলায় সংবেদনশীল সামরিক তথ্য, সরঞ্জাম ও ক্ষেপণাস্ত্রের যন্ত্রাংশ সংরক্ষণে ব্যবহৃত অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে।
সিরিয়ায় আসাদের সরকারের দ্রুত পতনকে ইসরায়েল উদ্বেগ ও আশার মিশ্রণে দেখছে। এটি মধ্যপ্রাচ্যে বছরের অন্যতম কৌশলগত পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ চলাকালে আসাদকে ইরান ও রাশিয়া সমর্থন দিয়ে আসছিল।
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে আসাদ সরকারের রাসায়নিক অস্ত্র ও নিষিদ্ধ ক্ষেপণাস্ত্র বিদ্রোহীদের হাতে চলে যেতে পারে, যারা রবিবার দামেস্কে প্রবেশ করেছে।
এর আগে রবিবার, ইসরায়েল দক্ষিণ-পশ্চিম সিরিয়ায় অন্তত সাতটি স্থানে হামলা চালায়, যার মধ্যে সুইদা শহরের উত্তরে খালখালা বিমানঘাঁটিও রয়েছে। সূত্রগুলো জানিয়েছে, সিরীয় সেনারা গত রাতে সেখান থেকে সরে যায়। সেনারা বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও গোলাবারুদের মজুদ ফেলে গেছে। সেগুলো রবিবার হামলার শিকার হয়েছে।
সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, রাজধানীর দক্ষিণ-পশ্চিমে মেজ্জা সামরিক বিমানবন্দরের কাছে গোলাবারুদের গুদামগুলোতেও হামলা হয়েছে।
ইসরায়েল সিরিয়ায় ইরান-সংযুক্ত লক্ষ্যবস্তুতে দীর্ঘদিন ধরে হামলা চালিয়ে আসছে। তবে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর এই ধরনের আক্রমণের মাত্রা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।