ইসরায়েলি বাহিনীর হেফাজতে নয় মাস থাকার পর গত জুলাই মাসে মুক্তি পান মোয়াযায ওবাইয়াত। একসময়ের বডিবিল্ডার ওবাইয়াত তখন থেকে অন্যের সহায়তা ছাড়া ঠিকমতো চলাফেরাও করতে পারেন না। মুক্তির তিন মাস অতিবাহিত না হতেই অক্টোবরে নিজ বাড়ি থেকে আবারও ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আটক হন তিনি। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সে মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব খবর জানা গেছে।
৩৭ বছর বয়সী মোয়াযায পাঁচ সন্তানের জনক। দ্বিতীয় দফায় আটক হওয়ার আগে বেথেলহেম সাইকিয়াট্রিক হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তার পিটিএসডির উপসর্গ ধরা পড়ে।
চিকিৎসকের নথির কপি যাচাই করেছে রয়টার্স। সেখানে লেখে আছে, হাজতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন মোয়াযায। পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা, পারিপার্শ্বিকতার ভয়াবহতা ও মারাত্মক মানসিক উদ্বেগ তার অসুখের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
ডিসেম্বরে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো গাজায় যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে আটঘাট বেঁধে আবার মাঠে নামে। তখন থেকেই ইসরায়েলি বন্দিশালায় আটক ফিলিস্তিনিদের ওপর চলা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের বিষয়টি আবার সামনে এসেছে। চুক্তিটি কার্যকর হলে, গাজা যুদ্ধের সময় ও আগে আটক হাজারও ফিলিস্তিনির বিনিময়ে হামাসের হাতে থাকে ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি নিশ্চিত হতে পারে।
ফিলিস্তিনি বন্দি বিষয়ক পরিষদের প্রধান ও পশ্চিম তীরের সরকারি কর্মকর্তা কাদৌরা ফারেস বলেছেন, সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় মুক্তি পাওয়া বন্দিদের শারীরিক ও মানসিক ক্ষত সারিয়ে তুলতে তাদের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রয়োজন হবে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধের ১৪ মাসে আটক হয়েছিলেন, এমন চারজন ফিলিস্তিনির সঙ্গে কথা বলেছে রয়টার্স। তাদের সবাইকে কোনও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ছাড়াই অবৈধ সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অজুহাতে মাসের পর মাস আটকে রাখা হয়েছিল।
বন্দিদশার বর্ণনা দিতে গিয়ে সবাই বলেছেন, রক্ষীদের দ্বারা প্রহার, অনাহারে রাখা ও ঘুমাতে না দেওয়া ছিল প্রায় নৈমিত্তিক বিষয়। অবশ্য তাদের দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স।
গত আগস্টে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় একটি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে দাবি করা হয়, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েলি বন্দিশালায় মারধর, যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছেন আটক ফিলিস্তিনিরা। সেখানে অবশ্য ৭ অক্টোবর হামাসের হামলাকেও যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
ইসরায়েলি বন্দিশালায় নির্যাতন ও ধর্ষণের প্রতিবেদনে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল ওয়াশিংটন।
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে, বন্দী ফিলিস্তিনিদের ওপর পরিকল্পিত ও রাষ্ট্র অনুমোদিত নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে ইসরায়েলি বাহিনী। তবে কয়েকজন বন্দি গাজাবাসীর ওপর চলা নির্যাতনের অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে বলে দাবি করেছে তারা।
বন্দীদের ওপর কেমন আচরণ করা হয়, জানতে চাইলে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী বেন গাভিরের কার্যালয় থেকে রয়টার্সকে বলা হয়, অপরাধীদের জন্য যথাযথ সুযোগ সুবিধাই নিশ্চিত করা হয়েছে। সবকিছুই সেখানে আইন অনুসারে পরিচালিত হচ্ছে।