দক্ষিণ কোরিয়ার অভিশংসিত প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে গ্রেফতার করতে তার বাড়িতে সরাসরি প্রবেশ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা ইউনের সমর্থকদের এড়াতে পারলেও সীমানার ভেতরে প্রেসিডেনশিয়াল সিকিউরিটি ফোর্সের (পিএসএস) সদস্যরা তাদের বাধা দেয়। শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) ইউনকে গ্রেফতার চেষ্টা নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী রয়টার্সকে জানিয়েছেন, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দুর্নীতি তদন্ত কার্যালয়ের (সিআইও) কর্মকর্তারা স্থানীয় সময় সকাল সাতটার কিছু পরেই ইউনের বাড়ির সামনে হাজির হন। অবশ্য গেটের সামনে একটি বাস রাস্তা আটকে দাঁড়িয়ে থাকায় কর্মকর্তা উপস্থিত হয়েই বাড়িতে প্রবেশ করতে পারেননি।
বাসভবনের ভেতরে প্রবেশ করার পর, দলটি পিএসএস এর বাধার মুখে পড়ে। পিএসএসের পাশাপাশি সেখানে সামরিক বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। দেশটির সংবাদমাধ্যম ইয়োনহাপে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে পিএসএস-এর প্রধানকে উদ্ধৃত করে লেখা হয়েছে, ইউনের বাসভবন তল্লাশির অনুমতি কর্তৃপক্ষের নেই।
অবশ্য ইউনের গ্রেফতার ঠেকাতে পিএসএস কোনও চেষ্টা করবে কিনা তা স্পষ্টভাবে বোঝা যায়নি। এর আগে অবশ্য ইউনের বাড়ি ও কার্যালয়ে তদন্তকারীদের প্রবেশে বাধা দিয়েছিল তারা।
রয়টার্সের এই প্রতিবেদন তৈরি করা পর্যন্ত অচলাবস্থা বজায় ছিল।
ঠিক এক মাস আগে তিন ডিসেম্বর, দেশে সামরিক আইন জারি করায় রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নড়বড়ে অবস্থায় আছেন ইউন। তার জারি করা সামরিক আইনের মেয়াদ কয়েকঘণ্টা হলেও, ওই পদক্ষেপে দেশদ্রোহিতা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী তার সাজাও হতে পারে। তিনি গ্রেফতার হলে, তা হবে ক্ষমতায় থাকা প্রথম কোনও দক্ষিণ কোরীয় প্রেসিডেন্টকে আটকের ঘটনা।
ইউনের আইনজীবী এই গ্রেফতারি পরোয়ানাকে অবৈধ বলে দাবি করে এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে তারা বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।
এদিকে ভোরবেলা থেকেই ইউনের বাসভবনের বাইরে শত শত প্রতিবাদকারী জড়ো হতে শুরু করে। তারা গ্রেফতার চেষ্টার বিরোধিতা করে স্লোগান দেয়। একজন প্রতিবাদকারী বলেন, জীবন দিয়ে হলেও ইউনকে গ্রেফতারে বাধা দিতে হবে।