তৃতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউজের মসনদে বসা নিয়ে আবারও রসিকতা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (২৭ জানুয়ারি) ট্রাম্পের এমন মন্তব্য উপস্থিত ব্যক্তিরা ঠাট্টাচ্ছলে নিলেও এ ধরনের কথা একাধিকবার বলেছেন তিনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ এ খবর জানিয়েছে।
রিপাবলিকানদের সম্মেলনে ট্রাম্প বলেছেন, পরের নির্বাচনের জন্য প্রচুর অর্থ সংগ্রহ করেছি আমি। তবে সেগুলো আমি নিজের জন্য খরচ করতে পারব বলে মনে হয় না। অবশ্য আমি পুরোপুরি নিশ্চিত নই যে, আরেকবার নির্বাচনে দাঁড়ানোর অনুমতি পাবো কিনা।
তৃতীয় মেয়াদের বিষয়ে অবশ্য রসিকতাচ্ছলে মন্তব্য এই প্রথম করলেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কমলা হ্যারিসকে পরাজিত করার কিছুদিন পর নভেম্বরেই রিপাবলিকানদের উদ্দেশ্যে ট্রাম্প বলেছিলেন, আরও একবার আমি নির্বাচনের জন্য লড়তে পারব বলে তো মনে হয় না, যদি না আপনারা কোনও পদক্ষেপ নেন।
এদিকে, গত সপ্তাহে রক্ষণশীল আইনপ্রণেতা অ্যান্ডি ওগলেস বলেছেন, ক্ষয়িষ্ণু আমেরিকার হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার জন্য আধুনিক যুগের একমাত্র সক্ষম ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সে লক্ষ্য পূরণে যত প্রয়োজন সময় তাকে দেওয়া উচিত।
তিনি আরও বলেছেন, আমি প্রস্তাব করছি, প্রেসিডেন্ট হওয়ার দুবারের সীমা বেঁধে দেওয়া ২২তম সংশোধনী পরিবর্তন করা হোক। সেটা করা হলে তিন মেয়াদেও হোয়াইট হাউজে থাকতে পারবেন ট্রাম্প। ফলে যুক্তরাষ্ট্র তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সামনে এগিয়ে যেতে পারবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে এক প্রেসিডেন্টের শাসনকাল দুই মেয়াদে সীমিত রাখার বিধান রয়েছে। ১৯৫১ সালে পাস হওয়া ২২তম সংশোধনীর মধ্য দিয়ে সংবিধানে এই বিধান যুক্ত করা হয়। ১৯৩৩ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত ফ্র্যাঙ্কলিন ডি রুজভেল্টের অভূতপূর্ব চার মেয়াদে প্রেসিডেন্ট থাকার প্রতিক্রিয়ায় সংবিধানে এই নিয়ম যুক্ত করা হয়।
লাস ভেগাসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উপস্থিতদের উদ্দেশ্যে ট্রাম্প বলেছেন, (প্রেসিডেন্ট হিসেবে) এক, দুই, তিন বা চারবার পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সেবা করার সুযোগ পেলে আমি সম্মানিত বোধ করব।
তারপরই কথার মোড় ঘুরিয়ে তিনি বলেন, ভুয়া খবরের জন্য শিরোনাম পেয়ে গেছেন আপনারা! না, তিনবার না, আমি দুবারই থাকছি। তবে আগামী চার বছর আমি আটঘাট বেঁধে নামছি। আমি পিছু হটব না। আমরা সবাই যদি একসঙ্গে থাকি, আমরা হারব না।