দক্ষিণ কোরিয়ার অভিশংসিত প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের দায়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা বাতিল করে দিয়েছে দেশটির আদালত। প্রসিকিউটররা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল না করায় শনিবার (৮ মার্চ) কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন ইউন। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
মুক্তি পাওয়া পর এক বিবৃতিতে ইউন জানিয়েছেন, অবৈধ পদক্ষেপ সংশোধনে সাহসী ও দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আমি আদালতকে ধন্যবাদ জানাই।
সিউল কেন্দ্রীয় জেলা আদালত গতকাল শুক্রবার ইউনের গ্রেফতারি পরোয়ানা বাতিল করে। আদালত জানায়, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের সময়কাল এবং তদন্ত প্রক্রিয়ার আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত ৩ ডিসেম্বর সামরিক আইন জারির কারণে তার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া এখনও চলমান আছে। তাই ৬৪ বছর বয়সী ইউন এখনও দায়িত্ব ফিরতে পারছেন না।
আদলতের রায়কে স্বাগত জানিয়ে ইউনের পক্ষের আইনজীবীরা বলেছেন, আদালতের সিদ্ধান্তে প্রমাণিত হলো যে, আইনগত ও পদ্ধতিগত- উভয় দিক থেকেই ইউনকে আটকে রাখা অবৈধ ছিল। এই রায়ের মধ্যে দিয়ে দেশে আইনের শাসন আবার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার যাত্রা শুরু হলো।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত, ইউনের বিষয়ে প্রসিকিউটরদের বক্তব্য জানতে পারেনি রয়টার্স।
এদিকে, ইউনের মুক্তির বিরুদ্ধে আপিল না করায় প্রসিকিউটরদের কঠোর সমালোচনা করেছে প্রধান বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি।তাদের অভিযোগ, দেশ ও জাতিকে গভীর সংকটের ফেলে দিয়েছেন প্রসিকিউটররা। পাশাপাশি, যতদ্রুত সম্ভব ইউনের অপসারণ নিশ্চিতের জন্য সাংবিধানিক আদালতের কাছে আহ্বান জানিয়েছে তারা।
সাংবিধানিক আদালতে ইউনের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া চলমান আছে। এটা সমাপ্ত হলে তার অপসারণ বা পুনর্বহালের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
দেশটির বার্তাসংস্থা ইয়োনহাপ জানিয়েছে, সিউলের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে হাজার হাজার মানুষ ইউনের পক্ষে ও বিপক্ষে মিছিল করেছে।
তবে দেশের সাধারণ জনগণের মধ্যে ইউন বিরোধী মনোভাব প্রবল। গ্যালাপ কোরিয়া নামের এক প্রতিষ্ঠানের শুক্রবার প্রকাশিত জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, ৩৫ শতাংশ মানুষ ইউনকে আবারও ক্ষমতায় দেখতে চান। অন্যদিকে, ৬০ শতাংশের বেশি মানুষ ইউনকে অপসারণের পক্ষে মত দিয়েছেন।