দক্ষিণ কোরিয়ায় সামরিক আইন জারি করাকে কেন্দ্র করে অভিশংসিত প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের স্থায়ী অপসারণ বা পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত দিতে পারে আদালত। এই সম্ভাব্য রায়কে ঘিরে তার সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। শনিবার (১৫ মার্চ) সিউলে হাজারও মানুষের জমায়েত হওয়ার মধ্যে দিয়ে তারই বহিঃপ্রকাশ দেখা যায়। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
সিউলের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এক বিশাল স্কয়ার ইউন বিরোধীদের সমাগমে পরিণত হয়। তাদের সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতারাও যোগদান করেন। ইউনের তাৎক্ষণিক অপসারণের জন্য বিভিন্নরকম স্লোগান দিতে থাকেন তারা।
এদিকে, মাত্র কয়েক ব্লক দূরে পুরো একটি অ্যাভিনিউ দখল করে ফেলেন ইউনের কট্টর সমর্থকরা। অভিশংসিত প্রেসিডেন্টের পুনর্বহালের জন্য জোরালো দাবি জানানো হয়েছে এই জমায়েত থেকে। এ সময় তাদের হাতে ছিল দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা।
এদিকে, মিছিলে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। যেমন, ইউন বিরোধী বিক্ষোভে দশ লাখের মতো মানুষ জড়ো হয়েছিলেন বলে দাবি জানিয়েছে প্রধান বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। তবে, পুলিশের বরাতে বার্তাসংস্থা ইয়োনহাপ জানিয়েছে, দুটি মিছিলেই প্রায় ৪৩ হাজারের মতো মানুষ উপস্থিত হয়েছিলেন। সব মিলে সংখ্যাটি ৯০ হাজারের বেশি হবে না।
ইউনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগেও মামলা চলছে। এ জন্য তাকে আগে আটক করা হলেও গত সপ্তাহে জামিনে মুক্তি পান তিনি।
সামরিক আইন জারি করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছেন ইউন। এরপর থেকেই রক্ষণশীল ও উদারপন্থিদের মধ্যে দূরত্ব আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সংকটের সূচনালগ্ন থেকেই ইউনের সমর্থক ও বিরোধীরা নিয়মিত রাস্তা আটকে বিক্ষোভ কর্মসূচি পরিচালনা করে যাচ্ছে।
গত শুক্রবার একটি জরিপের ফল প্রকাশ করেছে গ্যালোপ কোরিয়া নামের একটি সংস্থা। সেখানে দেখা যাচ্ছে, অংশগ্রহণকারীদের ৫৮ শতাংশ ইউনের অভিশংসনের পক্ষে মত দিয়েছেন। আর ৩৭ শতাংশ এর বিরোধী।
৭০ বছর বয়সী ইউন সমর্থক কিম হিউং জুন বলেছেন, সাংবিধানিক আদালত সঠিকভাবে বিচার করবে বলে আমার বিশ্বাস রয়েছে। আমি আশাবাদী, বিচারকরা মামলাটি খারিজ করে দেবেন।