দ. আফ্রিকায় অপরাধীদের সঙ্গে সখ্যতার অভিযোগে পুলিশমন্ত্রীকে অপসারণ

দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশমন্ত্রী সেনজো ম্যাখুনুকে অবিলম্বে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা। তার বিরুদ্ধে অপরাধচক্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এবং হাই-প্রোফাইল তদন্তে হস্তক্ষেপের অভিযোগের ভিত্তিতে রবিবার (১৩ জুলাই) এ সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

দেশবাসীর উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে রামাফোসা বলেছেন, এসব অভিযোগের জরুরি এবং সামগ্রিক তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। এজন্য শিগগিরই একটি বিচারিক কমিশন গঠন করা হবে।

ম্যাখুনুর অবর্তমানে আইনের অধ্যাপক ফিরোজ চাচালিয়াকে ভারপ্রাপ্ত পুলিশমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেবেন রামাফোসা।

কোয়াজুলু-নাতাল প্রদেশের পুলিশ কমিশনার নাহ্লানাহ্লা ম্যাখোয়ানাজি গত রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ম্যাখুনুর বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ উত্থাপন করেন।

হোয়াটস অ্যাপ মেসেজসহ বিভিন্ন রকম ডিজিটাল প্রমাণ পেশ করে তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হত্যার তদন্তে নিয়োজিত পুলিশের একটি টাস্ক ফোর্স ভেঙে দেন ম্যাখুনু। তাদের কাছ থেকে শতাধিক মামলা হস্তান্তর করা হয়েছে, যদিও পরে আর সেগুলোর তদন্তে কোনও অগ্রগতি হয়নি। এসবই করা হয়েছে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত রাজনীতিবিদ, পুলিশ কর্মকর্তা এবং অপরাধচক্রের সদস্যদের বাঁচিয়ে দেওয়ার জন্য। 

তবে সব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়ে ম্যাখুনু বলেছেন, তিনি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারবদ্ধ।

রামাফোসার দল আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের (এএনসি) অন্যতম জ্যেষ্ঠ নেতা হচ্ছেন ম্যাখুনু। ২০২৭ সালে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া দলের নির্বাচনি সম্মেলনে নেতৃস্থানীয় পদের জন্য তিনি প্রার্থী হতে পারেন বলে বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন। 

ম্যাখুনুর বিরুদ্ধে অভিযোগের ঘটনায় কিছুটা বেকায়দায় পড়েছেন রামাফোসা। কারণ দুর্নীতি দমনের অঙ্গীকার নিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় বসেছিলেন তিনি। পুলিশ বাহিনীর মতো গুরুত্বপূর্ণ একটা সংস্থার শীর্ষ ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের কারণে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং জনগণের মধ্যে ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ দানা বাঁধছে।  

দেশটিতে ক্রমবর্ধমান লাগামছাড়া অপরাধ নিয়ে বরাবরই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিনিয়োগকারীরা। বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, দক্ষিণ আফ্রিকার দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১০ শতাংশ বিভিন্ন অপরাধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।