ব্রহ্মপুত্রে চীনা বাঁধ উদ্বোধন, উদ্বেগে ভারত ও বাংলাদেশ

তিব্বত ও ভারতের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত একটি নদীর ওপর বিশাল আকার বাঁধ (মেগাড্যাম) নির্মাণ প্রকল্প শুরু করেছে বেইজিং। প্রকল্পের আওতাধীন নদীটি তিব্বতে ইয়ারলুং তসাংপো এবং ভারতে ব্রহ্মপুত্র নামে পরিচিত। শনিবার (১৯ জুলাই) আয়োজিত প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চীনা প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং যোগদান করেছিলেন বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ খবর জানিয়েছে।

গত ডিসেম্বরে মেগাড্যাম প্রকল্পের অনুমোদন করেছে বেইজিং। তিব্বত অঞ্চলে চীনের অর্থনৈতিক স্বার্থ ও কার্বন নিরপেক্ষতা অর্জনের লক্ষ্য সামনে রেখে প্রকল্পটি সাজানো হয়েছে।

তিব্বতের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় নাইংছিতে আয়োজিত জমকালো অনুষ্ঠানের পর চীনা সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া বলেছে, এই বাঁধ থেকে উৎপন্ন বিদ্যুৎ তিব্বতের স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অন্যান্য অঞ্চলেও সরবরাহ করা হবে।

বিশ্বের বৃহত্তম বাঁধ থ্রি গর্জেস ড্যামও নির্মাণ করেছে চীন। দেশটির মধ্যাঞ্চলে ইয়াংতজি নদীর ওপর নির্মিত বাঁধের প্রভাবে ভাটি অঞ্চলে বসবাসকারী বাংলাদেশ ও ভারতের কোটি কোটি মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। তবে প্রকল্প সম্পন্ন হলে, নতুন বাঁধের বিশালতা ও প্রভাবের সামনে থ্রি গর্জেসকে নস্যি মনে হবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

সিনহুয়া জানিয়েছে, প্রকল্পের আওতায় পাঁচটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যার মোট ব্যয় প্রায় ১৬৭ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

প্রকল্পটি নিয়ে আগে থেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে এবং নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

ব্রহ্মপুত্রের উজানের কোনও প্রকল্পের কারণে ভাটি অঞ্চলের ভোগান্তি যেন না হয়, তা নিশ্চিত করতে বেইজিংয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল দিল্লি।

তবে গত ডিসেম্বরে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করে, তাদের প্রকল্পের কারণে ভাটি অঞ্চলের কোনও দেশের ক্ষতি হবে না। তারপরও ভারতসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তারা।

এদিকে পরিবেশবিদরা সতর্ক করেছেন, তিব্বতের মতো সংবেদনশীল প্রকৃতির জন্য এ ধরনের মেগা প্রকল্পের কারণে অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে।