তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে জুলাই মাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক রুশ ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে ইউক্রেন। ফরাসি বার্তাসংস্থা এএফপির পক্ষ থেকে শুক্রবার (১ আগস্ট) প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে আসে।
বিশ্লেষণে বলা হয়, শান্তি আলোচনার স্থবিরতার মধ্যে ইউক্রেনে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করছে ক্রেমলিন। তার প্রভাব দেখা গেছে গেল জুলাই মাসে। ওই এক মাসেই দেশটিতে দূরপাল্লার রুশ হামলার পরিমাণ ১৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এর আগে জাতিসংঘ জানিয়েছিল, রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বৃদ্ধির ফলে গত জুন মাসে ইউক্রেনে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
এই বিশ্লেষণ যেদিন প্রকাশ করা হয়, তার আগেরদিনই রাশিয়ার ভয়াবহ ড্রোন হামলায় কিয়েভে ৩১ জনের প্রাণহানি ঘটে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে রুশ আগ্রাসন শুরুর পর থেকে খুব কম সংখ্যকবারই ইউক্রেনের রাজধানীতে এত ব্যাপক হামলা চালিয়েছে মস্কো।
শুক্রবার ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করে এএফপি সাংবাদিক জানিয়েছেন, রুশ হামলায় বিধ্বস্ত নয় তলা আবাসিক ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে সেদিনও মরদেহ উদ্ধার করছিলেন উদ্ধারকর্মীরা।
শুক্রবার উদ্ধারকাজ সমাপ্ত হওয়ার পর ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, এই হামলা প্রমাণ করেছে, মস্কোর ওপর বাড়তি চাপ ও নিষেধাজ্ঞা জারি করা কতটা জরুরি। আমেরিকা, ইউরোপ এবং অন্যান্য বৈশ্বিক শক্তির সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই আগ্রাসন বন্ধ করা সম্ভব।
রাশিয়ার হামলাকে ‘জঘন্য’ বলে উল্লেখ করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কায়া কাল্লাস। এসময় ইউরোপীয় ইউনিয়নের পতাকা অর্ধনমিত রেখে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি।
কাল্লাস বলেন, ইউক্রেনের জন্য বাড়তি অস্ত্র এবং রাশিয়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞাই যুদ্ধ থামানোর দ্রুততম উপায়।
এদিকে, ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে সহায়তার জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগীদের প্রতি আহ্বান জানান জেলেনস্কি।
শুক্রবার জার্মানি জানায়, শিগগিরই আরও দুটি মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্যাট্রিয়ট ইউক্রেনকে দেওয়া হবে। আগেও তারা তিনটি এমন ব্যবস্থা সরবরাহ করেছে।
রাশিয়া গত জুলাই মাসে প্রতিদিনই ইউক্রেনে আকাশপথে হামলা চালিয়েছে, যার ফলে প্রতি রাতে সাইরেন বেজেছে এবং মানুষজন আশ্রয়ের খোঁজে ছুটেছে।
রাশিয়া এখনো যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়নি। জুলাইয়ে তারা জানায়, এই তিন বছর পেরিয়ে যাওয়া যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার কূটনৈতিক পথ আপাতত তারা দেখছে না। গত মে মাস থেকে মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে তিন দফা সরাসরি আলোচনা হলেও সেগুলো কোনও শান্তিচুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি।
এদিকে, বৃহস্পতিবার এক বক্তব্যে রাশিয়ার কর্মকাণ্ডকে 'জঘন্য' বলে তিরস্কার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আসছে।
তিনি রাশিয়াকে ১০ থেকে ১২ দিনের সময়সীমা দিয়েছেন আগ্রাসন বন্ধের জন্য, নইলে নতুন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হবে বলে সতর্ক করেছেন।