আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রার্থনা করেছেন, দাবি ইসরায়েলি মন্ত্রীর

জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রার্থনা করার দাবি তুলে বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন ইসরায়েলের কট্টরপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গাভির। মধ্যপ্রাচের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থাপনাকে ঘিরে বেন গাভিরের এই কর্মকাণ্ড মুসলিম বিশ্বে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

ইহুদি পরিচালিত একটি ক্ষুদ্র সংগঠন টেম্পল মাউন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন প্রকাশিত কয়েকটি ভিডিওতে দেখা গেছে, কয়েকজন ব্যক্তিকে নিয়ে আল-আকসা প্রাঙ্গণে পায়চারি করছেন বেন গাভির। আরেকটি ভিডিওতে তাকে প্রার্থনারত অবস্থায় দেখা যায়। তবে ভিডিওগুলোর সত্যতা রয়টার্স স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

একই বক্তব্যে, আল-আকসা প্রাঙ্গণে ইহুদিদের প্রার্থনা করার অনুমতি দেওয়ার দাবি তুলেছেন বেন গাভির।

দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা প্রথা অনুযায়ী, ইহুদিরা সেখানে আসতে পারলেও প্রার্থনার অনুমতি দেওয়া হয় না। মসজিদটি এবং প্রাঙ্গণ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে আছে জর্ডানের একটি ধর্মীয় সংগঠন।

আল-আকসা যে প্রাঙ্গণে অবস্থিত, সেটাকে টেম্পল মাউন্ট হিসেবে অভিহিত করে ইহুদিরা। এই স্থানটি মুসলিমদের অন্যতম এবং ইহুদিদের প্রধানতম পবিত্র ধর্মীয় প্রাঙ্গণ। সেখানে অ-মুসলিমদের প্রার্থনা না করার বিধানটি আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মান করে থাকে ইসরায়েল।

বেন-গাভিরের বক্তব্যে বিকর্ত ছড়িয়ে যাওয়ার পর এক বিবৃতি দিয়ে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, আল-আকসা ঘিরে ইসরায়েলের অবস্থান অপরিবর্তিত আছে।

বহু শতাব্দী আগে টেম্পল মাউন্ট এলাকায় অবস্থিত দুটি ইহুদি উপাসনালয় ধ্বংসের শোক পালনে আয়োজিত তিশা বাআভের জন্য দলবলে সেখানে গিয়েছিলেন বেন গাভির। সেখানকার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে আসা প্রায় ১২৫০ জন ইহুদির মধ্যে ছিলেন বেন গাভির। তারা সেখানে প্রার্থনা এবং ধর্মীয় নৃত্য পালন করেন।

তিনি বলেন, গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের বিজয় এবং ইসরায়েলি বন্দিদের মুক্তির জন্য প্রার্থনা করেছেন। এছাড়াও তিনি গাজা উপত্যকা পুরোপুরি দখলের আহ্বানও পুনরায় জানান।

এদিকে, বেন গাভিরের সমালোচনা করে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের মুখপাত্র নাবিল আবু রুদেইনাহ বলেছেন, এই সফর সব রকম সীমা অতিক্রম করেছে। উগ্র ডানপন্থি সরকারের (নেতানিয়াহু সরকার) উসকানি বন্ধ করতে, গাজায় যুদ্ধ থামাতে এবং সেখানে মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষত মার্কিন প্রশাসনের এখনই হস্তক্ষেপ করা উচিত।