গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধের জন্য ইসরায়েলকে চাপ দিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে চিঠি লিখেছেন অবসরপ্রাপ্ত ইসরায়েলি কর্মকর্তারা। চিঠিতে প্রায় ৬০০ জন নিরাপত্তা কর্মকর্তার স্বাক্ষর রয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, আমাদের পেশাদারি অভিমত অনুযায়ী, হামাসকে ইসরায়েলের জন্য আর কৌশলগত কোনও হুমকি বলে মনে হচ্ছে না। সংখ্যাগরিষ্ঠ ইসরায়েলি কাছে আপনার (ট্রাম্প) গ্রহণযোগ্যতার কারণে নেতানিয়াহু সরকারকে সঠিক পথে আনার সামর্থ্য আপনার রয়েছে। সেটা হলো — যুদ্ধ বন্ধ করে জিম্মিদের ফিরিয়ে আনা এবং সব ভোগান্তির অবসান ঘটানো।
এই চিঠি এমন সময় লেখা হলো, যখন হামাসের সঙ্গে ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে এবং গাজায় সামরিক তৎপরতা বাড়াতে নেতানিয়াহুর পরিকল্পনার কথা শোনা যাচ্ছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে অনুপ্রবেশ করে হামাসের হামলার প্রতিক্রিয়ায় গাজায় ইসরায়েল যে সামরিক অভিযান শুরু করে, তাতে এখন পর্যন্ত ৬০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। সেই সঙ্গে গাজায় খাদ্য, ওষুধ ও অন্যান্য জরুরি পণ্যের প্রবেশ ঠেকানোর কারণে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৯৩ শিশুসহ ১৮০ জনের অপুষ্টিজনিত প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।
জাতিসংঘ সমর্থিত সংস্থাগুলো জানিয়েছে, গাজায় এখন ‘চরম দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি’ দেখা দিয়েছে।
সম্প্রতি হামাস ও ইসলামিক জিহাদের পক্ষ থেকে দুইজন ইসরায়েলি জিম্মির দুর্বল ও কঙ্কালসার ভিডিও প্রকাশ করা হয়, যা বিশ্বব্যাপী ব্যাপক নিন্দার মুখে পড়ে। এর জবাবে নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, জিম্মিদের মুক্ত করতে তার ‘অবিরাম’ প্রচেষ্টা চলছে।
তবে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের বরাতে এক কর্মকর্তা জানান, সরকার এখন মনে করে হামাসকে সামরিকভাবে পরাজিত করেই জিম্মিদের মুক্ত করা সম্ভব।
এই অবস্থায় ইসরায়েল সরকারের আরেক দফা সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনায় ক্ষোভ জানিয়েছেন জিম্মিদের পরিবারের সদস্যরা। তারা বলেন, নেতানিয়াহু ইসরায়েল ও জিম্মিদের ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন।
সাবেক গোয়েন্দা ও সামরিক প্রধানদের মধ্যে যারা এই খোলা চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন: মোসাদের সাবেক প্রধান তামির পারদো, শিন বেতের সাবেক প্রধান আমি আয়ালোন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাক এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোশে ইয়ালোন।
কমান্ডারস ফর ইসরায়েলি সিকিউরিটি (সিআইএস) নামের সাবেক কর্মকর্তাদের এই গ্রুপটি দীর্ঘদিন ধরেই যুদ্ধ থামিয়ে জিম্মিদের মুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছে।
চিঠিতে বলা হয়, শুরুতে এই যুদ্ধ ছিল ন্যায্য ও প্রতিরক্ষামূলক। কিন্তু যখন সমস্ত সামরিক লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে, তখন যুদ্ধটি আর ন্যায্য নেই।
তারা ট্রাম্পকে স্মরণ করিয়ে দেন, আপনি লেবাননে এই কাজ করেছেন। এবার গাজাতেও করুন — যুদ্ধ থামান!
ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপ ও গাজায় জনজীবনের দুর্দশা নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, ইসরায়েলের প্রতি বিশ্ব জনমত ক্রমেই নেতিবাচক হচ্ছে, যার ফলে পশ্চিমা দেশগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে।
তবে ট্রাম্প আদৌ নেতানিয়াহুর ওপর কী ধরনের চাপ প্রয়োগ করবেন, সেটি এখনও পরিষ্কার নয়। যদিও সম্প্রতি তিনি স্বীকার করেছেন যে গাজায় 'বাস্তব ক্ষুধার্ত পরিস্থিতি চলছে', যা নেতানিয়াহু অস্বীকার করে আসছিলেন।