ফ্রান্সের দাবানল এখন নিয়ন্ত্রণে, পুড়ে গেছে ৪০ হাজার একর এলাকা

তিনদিন পর কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে ফ্রান্সের দাবানল। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবার থেকে ছড়িয়ে পড়া আগুন ইতোমধ্যে প্রায় ৪০ হাজার একর এলাকা পুড়িয়ে ফেলেছে। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, এলাকা নিরাপদ রাখা এবং আগুনের স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে দমকলকর্মীরা সেখানে আরও কিছুদিন অবস্থান করবেন।

স্পেন সীমান্ত ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের নিকটবর্তী এলাকায় ছড়িয়ে পড়া এই আগুন অস্বাভাবিক দ্রুততায় ছড়িয়ে পড়েছিল। কয়েকমাসের খরায় শুষ্ক হয়ে ওঠা গাছপালায় ধরে যাওয়া আগুন জোরালো বাতাসের কারণে দ্রুতই ভয়াবহ দুর্যোগে পরিণত হয়।

এখনও সক্রিয় আগুন মোকাবিলা করতে হলেও ছড়িয়ে পড়ার মাত্রা কমে আসছে বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক ডেপুটি প্রিফেক্ট রেমি রেসিও। তিনি বলেন, আবহাওয়ার অবস্থার পরিবর্তন এবং বিশেষত বাতাসের গতিপ্রকৃতি বদলের কারণে আগেরদিনের তুলনায় আগুনের ছড়িয়ে পড়ার হার উল্লেখযোগ্য হারে কমে এসেছে।

এটি ছিল প্রায় ৮০ বছরের মধ্যে ফ্রান্সের বৃহত্তম অগ্নিকাণ্ড। এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত একজনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। ১৬ জন দমকলকর্মীসহ ১৮ জন মানুষ আহত হয়েছেন। আগুনের লেলিহান শিখায়  ধ্বংস হয়েছে ৩৬টি বাড়ি এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরও ২০টি।

আগুনের গ্রাস থেকে বাঁচতে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন হাজার দুয়েক মানুষ।

আউদি এলাকার ঘন গাছপালার ওপর দিয়ে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যাচ্ছিল। ড্রোন ফুটেজে দেখা গেছে, প্যারিসের প্রায় দেড়গুণ সমান এলাকা আগুনে পুড়ে গেছে।

কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ছাড়া স্থানীয়দের বাড়ি ফিরতে নিষেধাজ্ঞা বহাল আছে। এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নির্ধারণ করা যায়নি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভেঙে পড়া বৈদ্যুতিক লাইনের ঝুঁকি। সবমিলিয়ে নিরাপত্তার খাতিরে স্থানীয় অনেক রাস্তাঘাট এখনও আটকে রাখা হয়েছে এবং কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ব্যতীত স্থানীয়দের ফেরার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে।

স্থানীয় কর্মকর্তারা বলেছেন, বৃহস্পতিবার শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, সংকটের চূড়ান্ত সীমায় প্রায় হাজার পাঁচেক বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছিল এবং দেড় হাজার এখনও বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত সেইন্ট লরেন্ট দে লা ক্যাবরেরিসে গ্রামের বাসিন্দা অ্যালেইন রেনেউ বলেছেন, পানি, বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট-আমাদের এখানে কিচ্ছু অবশিষ্ট নেই। আমরা মহাপ্রলয়ের মধ্যে আছি।

দাবানলের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের জন্য একটি কমিটি গঠন করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে ১৯৪৯ সালের পর দেশটির বৃহত্তম দাবানলকে জলবায়ু পরিবর্তনের ফল বলে মন্তব্য করেছেন ফরাসি পরিবেশমন্ত্রী অ্যাগনেস প্যানিয়ের রুনাকের। তিনি বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ওই এলাকায় যে খরা চলছে, এই আগুন তারই পরিণতি।

এদিকে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করছেন, ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের শুষ্ক ও উষ্ণ গ্রীষ্মকালে দাবানলের উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে।

শুক্রবার থেকে ফ্রান্সজুড়ে নতুন এক দফা দাবদাহ ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ফরাসি আবহাওয়া অধিদফতর। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকা ওই প্রবাহে কয়েকদিন ভুগতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।