হান্টার বাইডেনের বিরুদ্ধে ১০০ কোটি ডলারের মানহানি মামলার হুমকি মেলানিয়ার

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ছেলে হান্টার বাইডেনের বিরুদ্ধে ১০০ কোটি ডলারের মানহানি মামলা দায়েরের হুমকি দিয়েছেন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। বহুল আলোচিত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে জড়িয়ে একটি মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতি এ দিকে মোড় নেয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

চলতি মাসের শুরুর দিকে চলচ্চিত্র নির্মাতা অ্যান্ড্রু ক্যালাহানের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে হান্টার দাবি করেন, এপস্টেইনের অপ্রকাশিত নথিতে ট্রাম্পের নাম জড়িত। এপস্টেইনই মেলানিয়াকে ট্রাম্পের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।

তার এই বক্তব্যকে 'মিথ্যা, অপমানজনক, মানহানিকর ও উসকানিমূলক' বলে প্রতিবাদ জানিয়েছেন মেলানিয়ার আইনজীবীরা।

হান্টার বাইডেনের আইনজীবীর কাছে ফার্স্ট লেডির আইনজীবীদের তরফ থেকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, হান্টার যদি তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমাপ্রার্থনা না করেন, তবে তাকে আইনি লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে, যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ হতে পারে ১০০ কোটি ডলারের বেশি।

চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, হান্টারের দাবির পুনরাবৃত্তির কারণে ফার্স্ট লেডি ভয়াবহ আর্থিক ক্ষতি ও সম্মানহানির শিকার হয়েছেন।

এপস্টেইনের সঙ্গে একসময় সুসম্পর্কের কথা অস্বীকার না করলেও ট্রাম্পের দাবি, চলতি শতকের শুরুর দিকে তাদের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়। পরে ২০০৫ সালে মেলানিয়ার সঙ্গে তার বিবাহ সম্পন্ন হয়।

আইনজীবীদের ওই চিঠিতে হান্টারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে অন্যদের নাম ভাঙিয়ে নিজের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করে আসছেন। মেলানিয়ার বিরুদ্ধে বিষোদ্‌গার করে তিনি মূলত মনোযোগের কেন্দ্রে আসতে চাইছেন।

মেলানিয়ার আইনজীবীরা এমন সময় এই চিঠি পাঠালেন, এপস্টেইন সংক্রান্ত নথি প্রকাশ নিয়ে চাপে আছে হোয়াইট হাউজ। এপস্টেইনের কাছে থেকে অন্যায় যৌন ভোগ বিলাসের সুবিধা গ্রহণকারীদের একটি তালিকা রয়েছে বলে অনেকের সন্দেহ, যা এপস্টেইন ফাইলস নামে পরিচিতি পেয়েছে। নির্বাচনের আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, ক্ষমতায় ফিরলে তিনি এ নথি প্রকাশ করবেন। তবে চলতি বছরের জুলাইয়ে এফবিআই ও বিচার বিভাগ জানায়, এপস্টেইনের সহযোগীদের কোনও তাদের কাছে নেই।

মেলানিয়ার আইনজীবীদের চিঠিতে বলা হয়, হান্টারের দাবি আংশিকভাবে সাংবাদিক মাইকেল উলফের উদ্ধৃতি থেকে এসেছে, যিনি ট্রাম্পের সমালোচনামূলক জীবনী লিখেছেন।

সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ডেইলি বিস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে উলফ দাবি করেছিলেন, মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা হওয়ার আগে তিনি এপস্টেইন ও ট্রাম্পের এক সহযোগীর পরিচিত ছিলেন। তবে ওই হাউজটি পরে মেলানিয়ার আইনজীবীর চিঠি পেয়ে প্রতিবেদনটি সরিয়ে নেয় ও প্রকাশনার বিষয়বস্তু ও শিরোনাম নিয়ে ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে।

এপস্টেইনের মাধ্যমে মেলানিয়া-ট্রাম্প জুটির পরিচয় হওয়ার কোনও প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি। যৌন নিপীড়ক এপস্টেইন ২০১৯ সালে বিচার শুরুর আগে কারাগারে আত্মহত্যা করেন।

২০১৬ সালের জানুয়ারিতে হার্পার্স বাজার ফ্যাশন ম্যাগাজিনে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে মেলানিয়া দাবি করেন, ১৯৯৮ সালের নভেম্বরে এক মডেলিং এজেন্সির প্রতিষ্ঠাতার আয়োজিত পার্টিতে ট্রাম্পের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সে সময় তিনি ট্রাম্পকে ফোন নম্বর দিতে অস্বীকৃতি জানান, কারণ বর্তমান প্রেসিডেন্ট তখন একজন সঙ্গিনী নিয়ে অনুষ্ঠানে এসেছিলেন।

ওই ম্যাগাজিনে বলা হয়, ট্রাম্প তখন তার দ্বিতীয় স্ত্রী মারলা মেপলসের থেকে আলাদা থাকছিলেন এবং পরের বছর তাদের আনুষ্ঠানিক বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এর আগে, ১৯৭৭ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত ইভানার সঙ্গে প্রথম বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন ট্রাম্প।