ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার জন্য আর্থিক দায়ের সিংহভাগ ইউরোপকেই বহন করতে হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার (২০ আগস্ট) মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স দেশটির সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজে এ কথা বলেন। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
তিনি বলেছেন, (নিরাপত্তা নিশ্চয়তার) দায়ভারের সিংহভাগটা ইউরোপকেই বহন করতে হবে, সেটা যে আকারেই হোক না কেন। এটা তাদের মহাদেশ আর তাদের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তো স্পষ্ট বলেই দিয়েছেন, সেখানে ইউরোপকেই এগিয়ে আসতে হবে।
রাশিয়া-ইউক্রেনের সাড়ে তিন বছরের যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে শান্তি চুক্তির মধ্যস্থতা করতে চান ট্রাম্প। কিয়েভের প্রধান দাবি, রুশ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা। তবে ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, মার্কিন স্থলবাহিনী সেখানে পাঠানো হবে না, তবে তারা আকাশসীমায় সহায়তা দিতে পারে।
ইতোমধ্যেই ইউরোপীয় দেশগুলো একটি “ইচ্ছুকদের জোট” (কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং) গঠন করেছে, যারা ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তায় সেনা মোতায়েনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন বারবার জানিয়েছে, ইউক্রেনের প্রতিরক্ষার জন্য দেদারসে আর আর্থিক সহায়তা (ব্ল্যাংক চেক) দিতে পারবে না ওয়াশিংটন। এখন পর্যন্ত কিয়েভকে দেওয়া সামরিক সহায়তার অঙ্কে বিরক্ত ট্রাম্পের চাওয়া, ইউরোপীয় মিত্ররা তাদের দায়ের মাত্রা বৃদ্ধি করুক।
ভ্যান্স বলেন, রাশিয়া কিছু ইউক্রেনীয় ভূখণ্ড চাইছে—যার বেশিরভাগই তারা দখল করেছে, তবে কিছু এখনও দখলে নেয়নি।
বর্তমানে রাশিয়া ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে। ট্রাম্পের মতে, যেকোনও শান্তি চুক্তিতে ভূখণ্ড বিনিময় ও সীমান্ত পরিবর্তনের মতো বিষয় উত্থাপিত হতে পারে।
তবে ইউক্রেন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কোনও ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়া সম্ভব নয়। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি উল্লেখ করেছেন, দেশের সংবিধানেই এ অবস্থান লিপিবদ্ধ রয়েছে। যদিও বাস্তবে কিয়েভের হাতে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রিত সব এলাকা পুনর্দখলের সামরিক সক্ষমতা নেই এবং কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগের ক্ষমতাও সীমিত।