ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীর পরিবারের সদস্য এবং সহযোগীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। কারাকাসের ওপর চাপ বৃদ্ধি কৌশলের অংশ হিসেবে শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) ওয়াশিংটন এই পদক্ষেপ নেয়।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, মাদুরো ও তার স্ত্রীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, এমন সাতজনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট অভিযোগ করেন, তারা মাদুরোর অবৈধ মাদকের সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করছে। যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ মাদকের বন্যা বইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে ভেনেজুয়েলা, যা ঠেকানো হবে।
বেসেন্টের ভাষায়, মাদুরো ও তার সহযোগীরা পশ্চিম গোলার্ধের শান্তি ও স্থিতি হুমকির মুখে ফেলছে, এবং ট্রাম্প প্রশাসন তাদের অবৈধ একনায়কতন্ত্রকে সমর্থনকারীদের নজরে রাখবে।
ভেনেজুয়েলার তথ্য মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিক মন্তব্য করেনি।
মাদুরো ও তার সরকার অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করে এবং বলে, যুক্তরাষ্ট্র তাকে উৎখাত করে দেশের বিপুল তেলসম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিতে চায়।
বিগত কয়েকমাসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন মাদুরোর ওপর চাপ বাড়িয়ে দক্ষিণ ক্যারিবীয় অঞ্চলে ব্যাপক সেনা মোতায়েন করেছে। সম্ভাব্য মাদকবাহী নৌযানে হামলা চালিয়েছে, নিষেধাজ্ঞায় পড়া একটি তেল ট্যাঙ্কার জব্দ করেছে, এবং ভেনেজুয়েলায় যাতায়াতকারী তেলবাহী জাহাজের ওপর “অবরোধ” ঘোষণা করেছে।
ট্রাম্প বহুবার হুঁশিয়ার দিয়েছেন যে, শিগগিরই ভেনেজুয়েলায় পদাতিক বাহিনীর হামলাও হতে পারে।
অর্থ মন্ত্রণালয় শুক্রবার ভেনেজুয়েলা-মালিকানাধীন শোধনাগার সিটগো পেট্রোলিয়ামকে ঋণশোধকারীদের হাত থেকে সুরক্ষা দেওয়ার লাইসেন্সও ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়িয়েছে—যা ২০ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল। গত জুনে দেওয়া ছয় মাসের মেয়াদের তুলনায় এটি অনেক সংক্ষিপ্ত সময়সীমা।
ওয়াশিংটন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সিটগোকে ঋণদাতাদের হাত থেকে রক্ষা করেছে—যখন আদালত সিটগোর মূল কোম্পানি পিডিভি হোল্ডিংয়ের শেয়ার বিক্রির প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। নতুন লাইসেন্স সাময়িকভাবে এমন একটি ভেনেজুয়েলা বন্ডের সঙ্গে লেনদেন নিষিদ্ধ করে, যা সিটগোর শেয়ার দিয়ে নিরাপদ রাখা হয়েছে।
গত নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের এক বিচারক সিটগো পেট্রোলিয়ামের মূল কোম্পানির শেয়ার একটি ক্রেতা এলিয়ট ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্টের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির অনুমোদন দেন। ৫৯০ কোটি ডলারের প্রস্তাব অনুমোদনের পরই এটি করা হয়। ওই পাওনা অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায়—দুই বছরব্যাপী নিলামের শেষ ধাপ, যার লক্ষ্য ছিল ঋণখেলাপি ও সম্পত্তি দখল সংক্রান্ত দাবিতে জড়িত ১৫ জন পর্যন্ত ঋণদাতাকে পরিশোধ করা।
সূত্র: রয়টার্স