পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে আজ

ভারতের আসাম, পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, কেরালা এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরির বিধানসভা নির্বাচনের তফসিল আজ রবিবার (১৫ মার্চ) বিকালে ঘোষণা হতে পারে। এদিন বিকাল ৪টায় সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। সেখানেই বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচনি তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে।

এই চারটি রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর হবে। ফলে রাজনৈতিক দলগুলো আর ভোটারদের আকর্ষণ করতে নতুন কোনও ঘোষণা দিতে পারবে না। পাশাপাশি নির্বাচনি সময়কালে রাজ্যের প্রশাসনিক কার্যক্রমও নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

সূত্রের খবর, পশ্চিমবঙ্গে এবার ৩ থেকে ৪ ধাপে ভোটগ্রহণ হতে পারে। এর আগে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে আট ধাপে ভোটগ্রহণ হয়েছিল। আসামে তিন ধাপে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আর তামিলনাড়ু, কেরালা ও পুদুচেরিতে এক ধাপে ভোটগ্রহণ হয়।

নিরাপত্তার দিক থেকে পশ্চিমবঙ্গকে সংবেদনশীল রাজ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ইতোমধ্যে সেখানে প্রায় ৪৮০টি কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাটালিয়ন মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত জেলা প্রশাসনের সঙ্গে পরামর্শ করে কমিশন নিযুক্ত পুলিশ পর্যবেক্ষকরা নেবেন। আগে এ দায়িত্ব জেলা পুলিশ প্রধানদের ওপর ন্যস্ত ছিল।

পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টানা চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় আসার লক্ষ্য নিয়ে নির্বাচনে মাঠে নামছেন। অন্যদিকে বিরোধী দল বিজেপি ক্ষমতার পালাবদলের চেষ্টা চালাচ্ছে। বিশেষ নিবিড় সংশোধনের পর এবার পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা ইতোমধ্যে রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠেছে এবং সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে।

দক্ষিণ ভারতে তামিলনাড়ুতে ডিএমকে প্রধান এম কে স্ট্যালিন দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার লক্ষ্য নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। বিরোধী শিবিরে এআইএডিএমকে ও বিজেপি জোট গঠন করেছে। এ নির্বাচনে নতুন আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছেন অভিনেতা-রাজনীতিবিদ বিজয়, যিনি তার দল টিভিকে নিয়ে প্রথমবারের মতো নির্বাচনি রাজনীতিতে নেমেছেন।

কেরালায় ঐতিহ্যগতভাবেই বাম ও কংগ্রেস জোটের মধ্যে লড়াই হয়। রাজ্যটি সাধারণত প্রতি নির্বাচনে সরকার পরিবর্তনের জন্য পরিচিত হলেও সিপিএম নেতা পিনারাই বিজয়ন টানা দুই মেয়াদে ক্ষমতায় আছেন এবং এবার তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করছেন। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলে উৎসাহিত কংগ্রেসও সেখানে জোরালো লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

উত্তর-পূর্ব ভারতের আসামেও জমে উঠেছে নির্বাচনি লড়াই। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার লক্ষ্য নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। অন্যদিকে কংগ্রেসও ভালো ফলের আশা করছে। রাজ্য কংগ্রেস প্রধান গৌরব গগৈয়ের নেতৃত্বে বিরোধী শিবির নির্বাচনি প্রস্তুতি চালাচ্ছে।

এদিকে পুদুচেরিতে সর্বভারতীয় এনআর কংগ্রেসের নেতা ও মুখ্যমন্ত্রী এন রাঙ্গাস্বামী তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় ফেরার লক্ষ্য নিয়ে নির্বাচনে লড়ছেন। অন্যদিকে বিরোধী দল ডিএমকে সেখানে পরিবর্তনের দাবি তুলে প্রচারণা চালাচ্ছে।