মসজিদে ঈদের আয়োজনে তোপের মুখে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সিডনির একটি মসজিদে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ব্যাপক হট্টগোল ও বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ। শুক্রবার সকালে সিডনির লাকেম্বা মসজিদে ঈদের নামাজে অংশ নিতে গেলে উপস্থিত মুসল্লিদের একাংশ তাকে লক্ষ্য করে ‘ধুয়ো ধ্বনি’ দেন এবং ‘বেরিয়ে যাও’ বলে চিৎকার করতে থাকেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

স্থানীয় সময় শুক্রবার সকালে এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সে সময় দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্কও উপস্থিত ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম বৃহত্তম এই মসজিদে কমিউনিটি নেতাদের আমন্ত্রণে তারা ঈদের নামাজে অংশ নিতে গিয়েছিলেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বেশ কয়েকজন মুসল্লি প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘গণহত্যা সমর্থক’ বলে অভিযুক্ত করেন। ওই সময় মসজিদের একজন নেতা মুসলিম অস্ট্রেলীয়দের সঙ্গে সরকারের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য দিচ্ছিলেন। ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধ এবং অস্ট্রেলিয়ায় ক্রমবর্ধমান ইসলামোফোবিয়া নিয়ে সরকারের অবস্থানের কারণে দেশটির মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশের মধ্যে গভীর ক্ষোভ বিরাজ করছে।

অস্ট্রেলিয়ান অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এএপি) বরাতে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে চিৎকার করা এক ব্যক্তিকে পুলিশ মসজিদ থেকে সরিয়ে দেয়। তবে পরে কোনও অভিযোগ ছাড়াই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বক্তব্য শেষ করে প্রধানমন্ত্রী যখন ভিড় ঠেলে বের হচ্ছিলেন, তখনও অনেকে চিৎকার করে বলতে থাকেন, ‘তিনি এখানে কেন? তাকে বের করে দাও! এটি একটি কলঙ্ক।’

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মসজিদ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান লেবানিজ মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীকে নামাজে স্বাগত জানানো হয়েছিল এবং তাদের দরজা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘গাজা ও লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষের আবেগ অনেক বেশি, যা আমরা বুঝি। তবে নির্বাচিত নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়া মানে উদ্বেগের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা নয়, বরং এটিই আমাদের কণ্ঠস্বর পৌঁছে দেওয়ার পথ।’

পরে অ্যালবানিজ গণমাধ্যমকে জানান, মসজিদে উপস্থিত ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষের অধিকাংশের কাছ থেকেই তিনি ইতিবাচক সাড়া পেয়েছেন। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, কিছু বিক্ষোভকারীর এই আচরণের পেছনে তার সরকারের সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপ, যেমন- হিযবুত তাহরীরের মতো চরমপন্থি সংগঠনগুলোকে নিষিদ্ধ করার মতো ঘটনা থাকতে পারে। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী এই সফরকে ‘সম্মানজনক’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং মুসল্লিদের সঙ্গে হাসিমুখে ছবি পোস্ট করেন।

অনুষ্ঠানে কমিউনিটি নেতা গামেল খের মুসল্লিদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা রাজনীতিবিদের পুরোপুরি বর্জনও করতে পারি না, আবার কেবল সস্তা ছবি তোলার সুযোগও দিতে পারি না।’

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম প্রধানমন্ত্রীকে এই মসজিদে নামাজের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।

গাজায় চলমান ইসরায়েলি হামলায় ৭২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে অস্ট্রেলিয়ায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে গত বছরের নির্বাচনি প্রচারণার সময় মেলবোর্নের একটি মসজিদে লিবারেল পার্টির জেসন উডকেও একইভাবে বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছিল।

গাজা সংঘাত এবং গত ডিসেম্বরে বন্ডি এলাকায় একটি ইহুদি অনুষ্ঠানে বন্দুক হামলায় ১৫ জনের মৃত্যুর ঘটনায় অ্যালবানিজ সরকার ব্যাপক সমালোচনার মুখে রয়েছে। ইসলামিক স্টেট (আইএস) মতাদর্শে অনুপ্রাণিত সেই হামলাটি ছিল গত তিন দশকের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনা।